আরইয়া আলদ্রিন (২০) একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী। তিনি তার সাইবেরিয়ান হাস্কি কুকুর জাইরাকে নিয়ে ইউক্রেন থেকে ভারতের কেরালায় পালিয়ে এসেছেন। কুকুরটির বয়স মাত্র পাঁচ মাস। 

ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাদের বিড়াল-কুকুরদের নিয়ে ইউক্রেন থেকে ফিরেছেন। কিন্তু রোমানিয়ান সীমান্তে বাসে তোলা জাইরাকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ায় আরইয়া এখন শিরোনামে। খবর বিবিসির

আরইয়া বলেছেন, রোমানিয়া থেকে দিল্লি যাওয়ার ফ্লাইটের কার্গোতে একটি খাঁচায় করে জাইরা এসেছে। 

‘আমি ওকে ছেড়ে যেতে পারব না’

২০২০ সালে ন্যাশনাল পিরোগভ মেমোরিয়াল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিলেন আরইয়া। সেখানে তার কেরালার অনেক বন্ধু হয়েছিল। সে প্রাণীদের ভালোবাসত তাই তার এক বন্ধু ২০২১ এর ডিসেম্বরে তাকে একটি দুই মাস বয়সি কুকুরছানা উপহার দেয়। 

তারা খুব দ্রুত বন্ধু হয়ে যায়। এমনকি আরইয়া বাসায় না থাকলে জাইরা খেতেও চাইত না। আরইয়ার জন্য অপেক্ষা করত। 

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর আরইয়ার একটাই চিন্তা ছিল, যাই হোক না কেন, সে জাইরাকে ছেড়ে যেতে পারবে না।

তার বন্ধুরা তাকে বলেছিল, কুকুরটিকে কিছুদিনের জন্য কারও কাছে দিয়ে আসতে। কিন্তু আরইয়া তা করেনি।

আরইয়া বলেন, ‘তাকে আমার মতো কেউ ভালোবাসবে না।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের দুই দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি আরইয়া ও জাইরা, এক বন্ধুর সঙ্গে ভিনিতসু ত্যাগ করে।  

পর দিন, তারা রোমানিয়ার সীমান্তে যাওয়ার একটি বাসে ওঠে। কিন্তু বাস ড্রাইভার তাদের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেয়।

আরইয়া জাইরাকে নিয়েই হাঁটতে শুরু করে। আবার থেমে থেমে তাকে বিশ্রাম নিতে হয়েছিল। ওজন হালকা করার জন্য আরইয়া অনেক খাবার আর জুস ফেলে দেয়। প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার জাইরাকে কোলে নিয়ে হাঁটে আরইয়া। 

রোমানিয়ার সীমান্তে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আরইয়ার ব্যাগে শুধু কুকুরের খাবার এবং ট্রাভেলের কাগজপত্র ছিল।  

সেখানে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেছেন আরইয়া। 

ওজন কমাতে শেষ পর্যন্ত আরইয়াকে কুকুরের খাবারও ফেলে দিতে হয়েছে।

আরইয়া বলেন, সীমান্ত পার হওয়ার পর আমার এত ভালো লাগছিল যে বলে বোঝাতে পারব না। 

ভারতে যাত্রা

ভারতের ফ্লাইটে উঠার আগে, রোমানিয়ান কর্তৃপক্ষ আরইয়াকে বলেন, জাইরাকে খাঁচায় করে নিয়ে যেতে হবে। 

ফ্লাইটে খাবার দিলে আরইয়া খেয়ে বাকিটা রেখে দেয় জাইরার জন্য। 

কেরালায় আবার এয়ারএশিয়ায় আরইয়ার দেরি হয়, কারণ সেখানে প্রাণীদের বোর্ডে যেতে দেওয়া হয় না। তাই আরইয়া অন্য একটি ফ্লাইট নেয়। পর দিন যখন আরইয়া ও জাইরা কোচি বিমানবন্দরে পৌঁছায়, তখন সাংবাদিকদের একটি দল তাদের স্বাগত জানায়।

আরইয়া প্রথম জাইরাকে নিয়ে একজন পশুচিকিৎসকের কাছে যান। তার পর পাহাড়ি স্টেশন মুন্নারে তার বাড়িতে চলে যান।

আরইয়া বলেন, জাইরা এখানে ভালোই মানিয়ে নিয়েছে। মুন্নার কেরালার বেশিরভাগ অংশের তুলনায় ঠান্ডা, তাই সাইবেরিয়ান হুস্কি হলেও জাইরার তেমন সমস্যা হচ্ছে না। 

আরইয়া হাসতে হাসতে জানান, আমার একটু ঈর্ষা হচ্ছে কারণ জাইরা আমার চেয়ে আমার মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে।