ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা করতে সোমবার ব্রাসেলসে বসেছিল ইউরোপীয়া ইউনিয়েনের (ইইউ) সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা। বরং রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নিয়ে ইইউ নেতারা দৃশ্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। 

সোমবারের বৈঠকের পর হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো জানান, তার দেশ রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন করবে না। বরং তা করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ছাড়াও পিটার সিজ্জার্তো নো ফ্লাই জোন প্রস্তাবটিতে আঞ্চলিক সংঘাতের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এই খবর জানায় আরটি। 

পিটার সিজ্জার্তো আরও জানান, রাশিয়ার গ্যাস এবং তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় বুদাপেস্টের সমর্থনের সম্ভাবনা নেই। কারণ এতে তাদের নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। 

তিনি বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা বা তার ওপর ইইউর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করবো না যা হাঙ্গেরির জ্বালানি সরবরাহের ওপর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

অন্যদিকে আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন কভেনি বৈঠকে যুক্তি দেখান, ইউক্রেনে এমন ভয়াবহ ধ্বংসের পরও আমরা রাশিয়ার জ্বালানি খাতের বিষয়ে অগ্রসর হতে না পারা খুবই বেমানান বিষয়। এই বক্তব্যের পর তিনি যে শুধু হাঙ্গেরির বিরোধিতার মুখে পড়েছেন তা নয়, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডও তার বিরোধিতা করেছে। 

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেন, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নটি আমরা চাই বা না চাইয়ের প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো তেলের ওপর আমরা কতটুকু নির্ভরশীল। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, ইইউর কয়েকটি দেশ দিনান্তেই স্বাভাবিকভাবে তেল আমদানি বন্ধ করতে পারবে না।