ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষককে হত্যার ঘটনায় তিন ভাইসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদালের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন এ রায় দেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর যাবতীয় কার্যক্রম শেষে বুধবার এ রায় ঘোষণা করা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন ভুঁইয়া সমকালকে এই তথ্য জানান।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আবুল কালাম (৬০)। তার ছেলে আবুল হোসেনের শ্বশুরবাড়ি পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের দিঘালিয়া গ্রামে। পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ছেলের শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তার পক্ষে অবস্থান নেন আবুল কালাম। 

বিরোধের জের ধরে আঠারবাড়ির খালবলা বাজারসংলগ্ন সেতুর পাশে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কালাম। 

হামলার পর কালামের ছেলে মো. শরিফুল আলম বাদি হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও অন্তত ৩ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে চার জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়। 

দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার রায় দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়।

বুধবার দুপুরে আবুল কালাম হত্যা মামলায় মো. আবুল হোসেন, মো. রমজান আলী, মো. নুরুল ইসলাম এবং উজ্জল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। 

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আবুল হোসেন, রমজান ও নুরুল ইসলাম আঠারবাড়ি ইউনিয়নের দিঘালিয়া গ্রামের আলী হোসেন ওরফে শুকুর মাহমুদের ছেলে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন ভুঁইয়া এবং আসামিপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম। 

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) প্রসূন কান্তি দাস বলেন, সাজার রায় হওয়া চার আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে ছিল। রায় ঘোষণার পর তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।