পাকিস্তানের পার্লামেন্টে (জাতীয় পরিষদ) প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি শুরু হয়েছে। ভোটাভুটি শুরুর এই অধিবেশন পাকিস্তান মুসলিম লিগের (এন) আয়াজ সাদিক পরিচালনা করছেন। খবর ডনের। 

শনিবার রাতে এই ভোটাভুটি শুরুর  কয়েক মিনিট আগে স্পিকার আসাদ কাইসার নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এসময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হতে তিনি পারবেন না। পরে তিনি জানান জাতীয় পরিষদের চলমান সেশন প্যানেল চেয়ারম্যান আয়াজ সাদিক পরিচালনা করবেন। 

সাদিক চেয়ারে আসন গ্রহণের পর নিজের দলের পক্ষে থাকা এবং ‘সম্মানজনক প্রস্থানের’ পথ বেছে নেওয়ায় পদত্যাগ করা স্পিকার আসাদ কাইসারের প্রশংসা করেন।  

সাদিক বলেন, আমাদের সবার সঙ্গে তার (কাইসার) খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, তার সঙ্গে কাজের সম্পর্ক ছিল। তিনি বিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছেন। 

এরপর সাদিক ভোটাভুটি শুরু হচ্ছে বলে পার্লামেন্টের সদস্যদের জানান এবং পরে পার্লামেন্টের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট শুরু হয় এবং প্রস্তাবের পক্ষে থাকা সদস্যদের সাদিকের বাঁ দিকে থাকা গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর তিনি নিয়ম অনুযায়ী ওই সেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। কারণ নিয়ম অনুযায়ী চলমান সেশন মধ্যরাত পার হওয়ার পর চলতে পারে না। এরপর রাত ১২টা ২ মিনিটের দিকে জাতীয় কোরআন তেলওয়াত ও নাতের মাধ্যমে জাতীয় পরিষদের নতুন সেশন শুরু হয়। 

পদত্যাগ ঘোষণার আগে তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ থেকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ নথি’ পেয়েছেন। পরে তিনি নথিটি বিরোধী দলের নেতা এবং পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতিকে দেখার আমন্ত্রণ জানান।

আসাদ কাইসার বলেন, আমাদের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পক্ষে আমাদের দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে স্পিকার পদে আমি থাকতে পারবো না। পদত্যাগ করবো। 

তিনি বলেন, এটা জাতীয় দায়িত্ব এবং এটা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত। আমি প্যানেল চেয়ারম্যান আয়াজ সাদিককে এই সেশন পরিচালনার জন্য বলবো।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটি শুরুর পরের একটি দৃশ্য। ছবি: ডন

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাবেদ বাজওয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। 

এর আগে আসাদ কাইসার জাতীয় পরিষদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সঙ্গে গত ৩০ বছর ধরে তার সম্পর্ক। তাই তিনি ভোটাভুটি হতে দিতে পারেন না।

পরে অবশ্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছিল, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কাইসার ইমরানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে সম্মত হয়েছেন। সংসদের কর্মকর্তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যত্যয় করে আজ ভোটাভুটি না করলে ‘কঠিন পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে স্পিকারকে জানালে তিনি ভোটাভুটিতে রাজি হন। 

এদিকে জাতীয় পরিষদের সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাত ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন চলতে পারে। এদিন চারবার মুলতবির পর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় পুনরায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।  

অন্যদিকে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে শনিবার রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।  

রিভিউ পিটিশনে পিটিআই বলেছে, সংসদের ব্যাপারে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের আইন এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরির ওই রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে পাকিস্তানের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি বিলম্বিত করার লক্ষ্যেই এই রিভিউ পিটিশন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেয় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ। অনাস্থা প্রস্তাবটি সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি এই অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করেন। বিরোধী দলগুলো স্পিকার আসাদ কাইসারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করায় ডেপুটি স্পিকার সেদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।