অনেক নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন ইমরান খান। এরপর শনিবার রাতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়েন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের শেষ আদেশ কী, এ নিয়ে কথা বলেছেন তারই রাজনৈতিক যোগাযোগ সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী শাহবাজ গিল। নিজের টুইটার আউডিতে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। খবর জিও নিউজের

শাহবাজ গিল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়ার আগে ইমরান তার মুখ্যসচিব আজম খানকে ‘অ্যাস্টাবলিশমেন্ট ডিভিশনে’ বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের মানবসম্পদবিষয়ক শাখা অ্যাস্টাবলিশমেন্ট ডিভিশন।

শাহবাজ গিল এও বলেন, আজম খানের পেশাদারির প্রশংসা করেছেন ইমরান খান। এছাড়া ‘চূড়ান্ত সততা ও অধ্যবসায়ের’ সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তার কাজের স্বীকৃতিও দিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে আজম খানের বদলির আদেশ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে কর্মরত আজম খানকে অ্যাস্টাবলিশমেন্ট ডিভিশনে বদলি করা হল। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শনিবার মধ্যরাতে ভোটাভুটি শেষ হওয়ার কিছু সময় পর ফল ঘোষণা করা হয়। অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট।

দেশের আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

এ পরিস্থিতিতে স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের শরণাপন্ন হন। টানা পাঁচদিনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ।