পাকিস্তানে এ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। কেউ গুপ্তহত্যার শিকার হন, কেউ সেনাবাহিনী দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত, কেউ পদত্যাগ করেন, কেউ সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ক্ষমতা হারান, কেউ আবার রাষ্ট্রপতির হাতে। কিন্তু ইমরান খানের মতো কেউ পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে বিদায় নেননি।

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যাকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিতে হল। নানা নাটকীয়তার পর শনিবার মধ্যরাতে জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্থাবের ওপর ভোটাভুটি শুরু হয়। খবর বিজনেস টুডের

অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট।

প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ে এবারের খেলোয়াড়দের একজন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ। গত ২৮ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয় অস্থিরতা।

এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে গত ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

এ পরিস্থিতিতে স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের শরণাপন্ন হন। টানা পাঁচদিনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ।