মোংলা বন্দরকে সচল রাখতে পশুর নদী খনন করা হবে। নদী থেকে উত্তোলিত বালি খুলনার দাকোপের বাণীয়াশান্তা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ তিন ফসলি কৃষিজমিতে ফেলানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ৩০০ একর জমি পতিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষির ওপর নির্ভরশীল অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার উদ্বাস্তু হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাপার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে নদীর বালি ফসলি জমিতে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়।

বাপা সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপা মোংলা শাখার আহ্‌বায়ক মো. নূর আলম শেখ। সরেজমিন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম। আরও বক্তৃতা করেন যুক্তরাষ্ট্রের লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান, বাপার কোষাধ্যক্ষ মহিদুল হক খান, নির্বাহী সদস্য এম এস সিদ্দিকী, দাকোপ থেকে আগত স্থানীয় কৃষিজমির মালিক সত্যজিত গাইন ও হিরন্ময় রায়, নারী নেত্রী সুপর্না রায়, বাণীশান্তা ইউপি সদস্য জয় কুমার মন্ডল মানিক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে একনেক সভায় অনুমোদিত পশুর নদী খনন প্রকল্পের আওতায় পশুর নদী থেকে প্রায় ২১৬ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালু উত্তোলন করা হবে। ওই মাটি ও বালু দাকোপ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন খাস ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ফেলানো হবে। এরমধ্যে দাকোপ উপজেলার বাণীয়াশান্তা ইউনিয়নের ৩০০ একর জমিতে খননকৃত মাটি ও বালু ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এখন পশুর নদী পাড়ের মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সুন্দরবন অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, সমীক্ষা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে। পরিবেশ ধ্বংস করবে। 

বাপা সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারি নথিতে বানিয়াশান্তা এলাকায় বালি ফেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বিকল্প প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীও চান না ফসলি জমি নষ্ট হোক। আর এটা তিন ফসলি জমি। যেখানে ব্যাপক ধান ও তরমুজ উৎপাদন হয়। সেখানে একাধিক বিকল্প থাকার পরও জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে শিল্প মালিকদের স্বার্থরক্ষায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।