স্বল্প খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে লোকজনকে প্রলুব্ধ করে তারা। এরপর তাদের ফাঁদে পা দিলেই পাসপোর্ট করে দেওয়ার নামে এক দফা এবং মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। একপর্যায়ে কোনো একদিন গভীর রাতে লোকজন জড়ো করে তুলে দেওয়া হতো ট্রলারে। এরপর কয়েকদিন বঙ্গোপসাগরে ঘুরিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছে বলে রাতের আঁধারে নামিয়ে দেওয়া হতো সেন্টমার্টিন দ্বীপে। সঙ্গে সঙ্গে লাপাত্তা হয়ে যায় প্রতারকরা। এভাবে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। চক্রের হোতাদের মধ্যে রয়েছে যুবলীগের এক নেতা।

গত রোববার থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজারের পেকুয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া গ্রামের মোজাফফর আহাম্মদের ছেলে ইসমাইল হোসেন ও শফিউল আলম, একই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন ও মৃত সৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মো. ইউনুছ মাঝি এবং কক্সবাজারের পেকুয়া থানার রাজাখালী গ্রামের সেকান্দার আলীর ছেলে রিয়াজ খান রাজু। তাদের মধ্যে রাজু পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, রিয়াজ খান রাজু, ইসমাইল হোসেন ও শফিউল আলম মানব পাচার চক্রের হোতা। স্বল্প খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দরিদ্র লোকজনের সঙ্গে চুক্তি করে তারা। শুরুতে পাসপোর্ট বানানোর কথা বলে টাকা নেয়। সেই টাকা দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় রাজু। এরপর চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়া যাওয়ার অর্ধেক টাকা নিয়ে নেয় সে। এভাবে ১৫-২০ জন হলে গভীর রাতে তাদের ট্রলারে তুলে দেয়। দুই-তিন দিন সাগরে ঘুরিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছেছে বলে গভীর রাতে সবাইকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নামিয়ে দেয়। সকাল হলে মানুষগুলো বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছেন। তাদের পাঠিয়ে দেওয়ার পরদিনই পরিবারগুলোর কাছ থেকে বাকি টাকা হাতিয়ে নেয় রাজু। টাকা দিতে না চাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের লোকজনকে নির্যাতন চালাত সে। প্রতারিত লোকজন ফিরে এসে টাকা ফেরত চাইলে তাদেরও মারধর ও হুমকি ধমকি দিত রাজু।

র‌্যাব -৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, চক্রটি অনেক লোকজনের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করেছে। প্রতারিত হলেও তারা ভয়ে থানায় অভিযোগ করার সাহস পেতেন না। কারণ, রাজু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। প্রতারিত হয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বাড়িছাড়া করে দেয় সে। সর্বশেষ প্রতারিত হওয়া পাঁচ ব্যক্তি অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেলে অভিযান চালিয়ে হোতাসহ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।