শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে এক বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। এই হতাহতের পর পুরো দেশজুড়ে আবারও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দেশটির রামবুক্কানা শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ওই গুলিবর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এদিন শ্রীলঙ্কার প্রধান জ্বালানি খুচরা বিক্রেতা জ্বালানির মূল্য প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়ালে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া একইদিন গমের আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন রামবুক্কানা শহরে জড়ো হওয়া জনতা জ্বালানির দাবিতে টানা ১৫ ঘণ্টা বিক্ষোভ করে। হাজার হাজার উত্তেজিত মোটরসাইকেল চালক এবং বাসচালক ক্যান্ডি শহরের সঙ্গে রাজধানী কলম্বোর সংযোগ স্থাপনকারী হাইওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ তৈরি করেন। বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন। 

দেশটির পুলিশের মুখপাত্র নিহাল তালদুওয়া বিবিসি অনলাইনকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ‘গুলি করতে বাধ্য’ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কিছু টায়ারে আগুন দেয়। তাই তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ‘সর্বনিম্ন শক্তি’ ব্যবহারেরও দাবি করছে। 

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও অন্যান্য বস্তু ছুড়েছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কিন্তু পাথরের প্রতিক্রিয়ায় গুলি ছোড়াকে কোনোভাবে মানতে পারছেন না দেশটির সাধারণ মানুষ। 

অন্যদিকে দেশটির কেগালে টিচিং হাসপাতালের পরিচালক মিহিরি প্রিয়াঙ্গানি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আহত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত তিন জনের অবস্থা গুরুতর। আর নিহত ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি গুলিতে আহত হয়েই মারা গেছেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করতে হবে। 

এদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় নিয়োজিত জাতিসংঘের প্রতিনিধি। এ ছাড়া ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দূতরা। 

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পার করছে। গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির অর্থ না থাকায় সংকট দ্রুত ঘনীভূত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে এবং জ্বালানি, ওষধু এবং বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এতে হাজার হাজার শ্রীলঙ্কান রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের নীতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গোতাবায়া রাজাপাকসে স্বীকার করেছেন তিনি বেশকিছু ‘ভুল’ করেছেন যা পরিস্থিতিকে খারাপের দিকে নিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে। তবে সোমবার নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে রাখায় অনেক শ্রীলঙ্কানকে বিক্ষুব্ধ করেছে।  প্রসঙ্গত, চলমান সংকটের মধ্যেই সোমবার নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।