রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাবে বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির হিসাবমতে, ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যেটি ২০২১ সালে ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

মঙ্গলবার আইএমএফ প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বিশ্ব অর্থনীতিতে সর্বশেষ যে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, তা জানুয়ারিতে দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

এ ছাড়া আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ মানবিক সংকট বাড়িয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান দরকার। এই যুদ্ধের ফলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই চলতি বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি অনেকটা কমে যাবে। অন্যদিকে, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে বাড়বে মূল্যস্ম্ফীতির হার। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর দরিদ্র মানুষের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

আইএমএফের হিসাবে, যুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে চলতি বছর উন্নত দেশগুলোতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হারে মূল্যস্ম্ফীতি হতে পারে। যেটি গত জানুয়ারিতে দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়েও খানিকটা বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি হওয়া বাড়তি মূল্যস্ম্ফীতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারপরও তাদের এ বিষয়ে সজাগ থেকে সতর্ক-পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিস্থিতির আলোকেই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে। আর যুদ্ধের প্রভাব, করোনা অতিমারি পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অবস্থা বিবেচনা করেই রাজস্ব নীতি গ্রহণ করতে হবে সংশ্নিষ্ট দেশের সরকারকে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে পরিকল্পিতভাবে ও সচ্ছতার সঙ্গে।

এদিকে আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে এটি আরও খানিকটা বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। আর চলতি বছর বাংলাদেশে মূল্যস্ম্ফীতির হার পৌঁছাতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। তবে আগামী বছর মূল্যস্ম্ফীতি কমবে। দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে।