নাইজেরিয়ার রিভার্স রাজ্যে একটি অবৈধ তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি একটি সংস্থা তেল শোধনাগারে এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরাকে জানিয়েছে।

রিভার্স রাজ্যের পেট্রোলিয়াম সম্পদ–বিষয়ক কমিশনার গুডলাক ওপিয়াহ বলেন, অবৈধ একটি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আগুনে এসব মানুষের শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে তাদের শনাক্ত করা পর্যন্ত যাচ্ছে না।

ইয়ুথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার বলেছে, বিস্ফোরণের সময় সেখানে অবৈধ তেল কেনার জন্য লাইনে থাকা অনেকগুলো গাড়ি পুড়ে গেছে। 

গত বছরের অক্টোবরে রিভার্স রাজ্যে একটি অবৈধ তেল শোধনাগারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।

আফ্রিকার সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ নাইজেরিয়া। নাইজেরিয়া সরকারের হিসাবে, প্রতিদিন অনেক ব্যারেল তেল চুরি হয়।

চরম বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যের কারণে নাইজারিয়ায় অবৈধ তেল পরিশোধন আকর্ষণীয় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তবে মাঝে মাঝেই এসব অবৈধ শোধনাগারে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দেশটির প্রধান প্রধান বিভিন্ন তেল কোম্পানির পাইপলাইন থেকে তেল চুরির পর সেগুলো অবৈধ স্থাপনায় পরিশোধন করা হয়। বিপজ্জনক এই প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

চোরাকারবারী অবৈধ এই তেল শোধন প্রক্রিয়ার ফেলে দেশটির একটি অঞ্চল ভয়াবহ দূষণের শিকার হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার কৃষিজমি, নদীনালা এবং এবং উপহ্রদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর পাইপলাইন থেকে তেল চুরি করে তা অবৈধভাবে তৈরি অস্থায়ী ট্যাংকে নিয়ে পরিশোধনের পর জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়।

তেল চুরি করে তা পরিশোধনের পর বিক্রির অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গত ফেব্রুয়ারিতে অভিযান শুরু করে। কিন্তু তাতে খুব বেশি সফলতা আসেনি।