তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর প্রস্তাবিত সুনির্দিষ্ট তামাক কর আরোপ হলে আসন্ন অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা বেশি। অতিরিক্ত এই রাজস্বের মাত্র ৪.৪৫ শতাংশ ব্যয়ে দেশে বিনামূল্যে  হৃদরোগ চিকিৎসা সম্ভব বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার ‘বিনামূল্যে হৃদরোগের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে তামাকজাত দ্রব্যের কর ব্যবস্থাপনা: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক অনলাইন কনসালটেশন মিটিংয়ে তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)-এর উদ্যোগে অনলাইনে এই কনসালটেশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

মিটিংয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিইআর-এর ফোকাল পার্সন ড. রুমানা হক। অনুষ্ঠানে বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ডিপার্টমেন্ট অব ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

মূল বক্তব্যে ড. রুমানা হক আসন্ন অর্থবছরের জন্য তামাক কর প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন। ফিল্টারবিহীন বিড়ি, ফিল্টারযুক্ত বিড়ি, জর্দা, গুলের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলেন। তামাকের সাদা পাতাও করের আওতায় আনার দাবি জানান। তামাকজাত দ্রব্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ পূর্বের ন্যায় বহাল রাখার প্রস্তাব জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে মাত্র ৪১০ কোটি টাকা ব্যায় করে সকল হৃদরোগীর বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। তারা আরও জানান, গত বছর তিন ধরণের হৃদরোগ চিকিৎসায় (এনজিওগ্রাম, রিং পরানো ও বাইপাস সার্জারি) রোগিরা ২৮৬.৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। যা তামাক খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের মাত্র ৩.১২ শতাংশ।

বক্তারা জানান, মূল্য কারসাজি করে তামাক কোম্পানীগুলো প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এই ফাঁকি রোধ করে ওই টাকাও স্বাস্থ্য সেবায় ব্যায় করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করতে প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়ন, সুনির্দিষ্ট কর আরোপ, তামাক কোম্পানির মূল্য কারসাজি প্রতিরোধ এবং পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি