গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে কতগুলো রোগ বেড়ে গেছে। তার মধ্যে ক্যান্সার রোগও বেড়ে গেছে। আমরা ৫০ কোটি টাকা পেলে পৃথিবীর উন্নতমানের ক্যান্সার সেন্টার করতে পারি।’

বুধবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের সামনে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিরতণকালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা বলেন। এসময় ক্যান্সার হাসাপাতাল করতে সরকার ও দেশের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ফুটপাতে ক্ষুদ্র দোকানদার, ফেরিওয়ালা, রিকশা ও ভ্যান চালকসহ স্বল্প আয় ও ‌অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। একটি প্যাকেটে চাল, চিনি, সেমাই, দুধসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ হাজার পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করা হয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণকে সেবা দেওয়া একমাত্র সরকারের দায়িত্ব না। আমাদের দেশে কোটি-খানেক ব্যবসায়ী আছেন। তারা একটু দান করলে ১০ হাজার নয়, ১ লাখ মানুষের মাঝে সহায়তা দিতে পারতাম।’ তিনি ব্যবসায়ী ও সামাজের ধনী ব্যক্তিদেরকে যাকাতের টাকা ও আয়ের টাকা দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ খাদ্য সামগ্রী বিতরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রত্যেক কর্মী বেতনের ৫ শতাংশ দিয়েছে এবং ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলুও এই কর্মসূচিতে আর্থিক সহযোগীতা করেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা ও সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তারা যদি বেতনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ দিতেন তাহলে আমরা লক্ষাধিক মানুষকে সহায়তা দিতে পারতাম। কেউ খাবে কেউ খাবে না। এটা হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নামমাত্র মূল্যে কিডনির ডায়ালাইসিস দেই। ৫০০ থেকে ১ হাজারের মধ্যে আমরা ডায়ালাইসিস দেই। অথচ এটার জন্য ভারতীয় একটা কোম্পানিকে ২৫০০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়। আমাদের ১ হাজার টাকা ভর্তুকি দিলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের সেবা দিতে পারতাম।’

কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘সরকারের ভুল নীতির কারণে খেলার মাঠ পুলিশ দখল করে নিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভালো কাজ একা করা যায় না। ভালো কাজের জন্য সবাইকে সঙ্গে নেন।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দান গণস্বাস্থ্যের অগ্রযাত্রা শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তারপর থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষা ও অসহায় দরিদ্রদের মাঝে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আজ আমরা ভাসানী অনুসারী পরিষদ গণস্বাস্থ্যের ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেদেরকে গৌরবান্বিত মনে করছি। আগামীতেও আমরা গণস্বাস্থ্যের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা মাধ্যমে অংশগ্রহণ করার আশা রাখি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধ্যাপক শওকত আরমান, ডিএলএ'র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, অটোরিকশা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুকসহ প্রমুখ।