ফরিদপুরে পালিত হয়েছে ঈশান গোপালপুর গ্রামের গণহত্যা দিবসের ৫১ বছর পূর্তি। গত ২ মে নারায়ণ পূজা, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা ও আলোচনাসভার মধ্যে দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

শহীদ পরিবারের সদস্য চিত্ত ঘোষ জানান, বেলা ১১টার দিকে শহীদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে সমাধিক্ষেত্রে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে পালিত হয় এক মিনিট নীরবতা। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণ পূজা। এরপর  সমাধি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর ফরিদপুর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) নূর মোহাম্মদ বাবুল।

আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য চিত্ত ঘোষ, বৃহত্তর ফরিদপুর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সাগর সরকার।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য বদ্ধভূমি। এগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শহীদের নাম লিপিবদ্ধ করে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঠিক মূল্যায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২ মে দুপুরের দিকে ঈশান গোপালপুরে জমিদার সরকার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ২৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা। হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানী সেনারা চলে যাওয়ার পর এলাকাবাসী ঈশান সরকার বাড়ির পুকুর পাড়ে ২৮ জনের লাশ গণসমাধি দেন। 

২০১০ সালের ২ মে শহীদ পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সেখানে ২৮ শহীদের নামফলকসহ একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করার হয়। গত বছর ওই বধ্যভূমিতে সরকারি উদ্যোগে একটি সৌধ নির্মাণ করা হয়।