আলিনা কাবায়েভা রাশিয়ার একজন রাজনীতিক, মিডিয়া বস এবং অলিম্পিকে সোনা জয়ী জিমন্যাস্টস। গুঞ্জন রয়েছে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রেমিকা এবং তাদের সন্তান আছে। বাকি পরিচয় ছাপিয়ে এই কারণে এখন তিনি আলোচিত। তার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আসছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশের অবরোধের আওতায় যাদের আনা হয়েছে, তারা সবাই পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ।


গত মাসে আমেরিকা ও ব্রিটেন ভ্লাদিমির পুতিনের দুই মেয়ে মারিয়া ভরোন্তসোভা ও কাতেরিনা তিখোনোভার ওপর অবরোধ আরোপ করে। দু'জনেরই মা পুতিনের সাবেক স্ত্রী লুদমিলা।

কিছু সূত্রের মাধ্যমে বিবিসি নিশ্চিত যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞার নতুন যে তালিকা তৈরি করছে তাতে আলিনা কাবায়েভার নাম রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর, আলিনার ওপর নিসেধাজ্ঞা আসার কারণ ৬৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে 'ঘনিষ্ঠতা'। যদিও নিষেধাজ্ঞার খসড়া তালিকায় কাবায়েভকে পুতিনের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তালিকায় আনুষ্ঠানিক সইও হয়নি।

এদিকে, আলিনা কাবায়েভের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন পুতিন। ২০০৮ সালে সালে রাশিয়ার মস্কোভস্কি করেসপন্ডেন্ট পত্রিকা খবর দেয়, ভ্লাদিমির পুতিন তার স্ত্রী লুদমিলাকে তালাক দিয়ে  আলিনা কাবায়েভাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। তখন দুজনই এই খবরের সত্যতা উড়িয়ে দেন। 

এর কিছুদিন পরই কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটির বন্ধ করে দেয়। তারও পাঁচ বছর পর পুতিন ও লুদমিলা তাদের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন।


রাশিয়া ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিক্সে জিমনাস্টিক্সের যত রকম ইভেন্ট আছে তার সবকটিতে স্বর্ণ জেতেন আলিনা কাবায়েভা। তার জন্ম ১৯৮৩ সালে। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি রিদমিক জিমনাস্টিক্স শুরু করেন।

আলিনা এক পর্যায়ে রাশিয়ার 'সবচেয়ে নমনীয় নারী' হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। সবার মধ্যে বিস্ময় জাগিয়ে ১৯৯৮ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন।

২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিক্সে একটি ভুলের কারণে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরতে হয় আলিনাকে। কিন্তু চার বছর পর অ্যাথেন্স অলিম্পিক্স থেকে স্বর্ণ নিয়ে ফেরেন তিনি। অবসরে যাওয়ার আগে অলিম্পিক্স পদক ছাড়াও তিনি ১৮ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ পদক ও ২৫টি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ পদক জেতেন।

মাদকের কালো থাবা থেকে আলিনা কাবায়েভাও রক্ষা পাননি। ২০০১ সালের এক প্রতিযোগিতায় শরীরে নিষিদ্ধ মাদক পাওয়ার পর তার পদক কেড়ে নেওয়া হয়।

রাজনীতিতে আলিনা কাবায়েভা

পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির হয়ে ২০০৭-২০১৪ মেয়াদে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সদস্য নির্বাচিত হন আলিনা। সেটাই তার সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ।

তিনি ২০১৪ সালে ন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপের প্রধান হন। এই প্রতিষ্ঠানটির হাতে রয়েছে রাশিয়ার বড় বড় সব সংবাদমাধ্যমের মালিকানা। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে এসব সংবাদমাধ্যম নিরলসভাবে ক্রেমলিনপন্থী বার্তা প্রচার করে যাচ্ছে। এসব বার্তায় রুশ সৈন্যদের দেখানো হচ্ছে 'মুক্তিদাতা' হিসেবে।


তবে এটা স্পষ্ট নয় পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় কবে। তবে তাদের দুজনের ২০০১ সালে তোলা একটি ছবি পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায়, আলিনার হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন পুতিন।

পুতিন-আলিনার সন্তান রয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকার খবর হলো, আলিনা কাভায়েভা ২০১৫ সালে লেক লুগানোর একটি ক্লিনিকে ছেলে সন্তান জন্ম দেন। একই স্থানে ২০১৯ সালে তার আরেকটি ছেলে হয়। তার দুই ছেলেরই বাবা হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। কিন্তু দ্য সানডে টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অবশ্য অন্য তথ্য দেয়। তারা বলে, মস্কোতে ২০১৯ সালে যমজ ছেলে জন্ম দিয়েছেন কাভায়েভা। তবে ক্রেমলিন এসব খবরের সত্যতা অস্বীকার করে।

ভোগ পত্রিকায় ২০১১ সালে আলিনাকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয়। সেখানে ফরাসি ফ্যাশন হাউস বালমেইনের তৈরি স্বর্ণখচিত দামি পোশাকে তাকে দেখা যায়। বিষয়টি পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। 

তবে পুতিনের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি আলিনা খোলসা না করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তাকে রাশিয়ার 'গোপন ফার্ষ্টলেডি' বলে প্রচার করে আসছে।