সাপ্তাহিক বন্ধের দিন গ্রামবাসীর আশ্রয় নেওয়া একটি স্কুলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। বন্ধের দিনে শুধু ওই স্কুলেই নয়, আরও বেশ কয়েকটি হামলা করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সৈন্যরাও থেমে নেই। তারাও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। যুদ্ধ যে স্থিমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই এসব পাল্টাপাল্টি হামলায় তারই ইঙ্গিত। 

রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম  বিবিসি অনলাইন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া লাইভ আপডেটে এমটাই জানিয়েছে। 

সম্প্রতি রাশিয়ার ক্রমাগত আক্রমণ করে চলছে। আর এই আক্রমণের মধ্যেই ইউক্রেনের লুহানস্কের পোপাস্নার চারপাশে ইউক্রেনীয় বাহিনী সঙ্গে রাশিয়ান বাহিনীর তুমুল লড়াই হচ্ছে। যদিও স্থানীয় গভর্নর সারহিয়ে হাইদাই বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী পিছু হটেছে এবং শহরের সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে। 

এদিকে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান মিত্র চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ বলেছেন, তার সৈন্যরা শহরের বেশিরভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে। 

অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বলছেন, একই নামের (পোপাস্না) শহর এবং হলমিভস্কি নামে একটি শহরে রোববার ইউক্রেনীয় বাহিনী গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। 

এর আগে উভয় পক্ষই বিরোধী পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল। ইউক্রেন সরকার বলেছে, তারা শত্রুপক্ষের ৪০০ সেনা হত্যা, আটটি ট্যাঙ্ক, ২৮টি সাঁজোয়া যান ও একটি জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং একটি হেলিকপ্টার ও ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। 

অন্যদিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, শুধু তাদের বিমান বাহিনীই প্রায় ৪২০ জন ইউক্রেনীয় সেনা হত্যা করেছে। আর ৫৫টি সামরিক সরঞ্জামাদি অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরনগরী ওডেসার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে একটি যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি যুদ্ধ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে উভয় পক্ষের এসব দাবির ব্যাপারে বিবিসি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। অভিযানের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে সামরিক তৎপরতা জোরদার করে। কিন্তু প্রায় একমাসেও কিয়েভ দখল করতে পারেনি রাশিয়া। এ সময় রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে রাশিয়া জানায়, তারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে অভিযানে মনোযোগ দেবে। এখন দনবাসকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা চলছে।