দেশের রাজনীতিতে সাত দল ও সংগঠনের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক জোট 'গণতন্ত্র মঞ্চ' আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এ মাসেই সরকারবিরোধী নতুন এ জোটের ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর হাতিরপুলে একটি দলের কার্যালয়ে সাত দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। তারা নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের নাম নির্ধারণ, কর্মসূচি প্রণয়ন, অন্য দলের জোটে অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বর্তমান সরকারের দ্রুত পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, এই সরকারের অধীনে তারা কেউ নির্বাচনে যাবেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেই সরকার তিন মাস ক্ষমতায় থাকবে নাকি দুই বছর থাকবে, তা তারা নির্ধারণ করবে।

বৈঠকে অংশ নেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, নঈম জাহাঙ্গীর, আখতার হোসেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সন্ধ্যার পর প্রথম বৈঠকে বসেন সাত দলের শীর্ষ নেতারা। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামী নির্বাচন অবাধ হবে না- এমন আশঙ্কা নিয়ে বৈঠকে মতৈক্য হয়েছে। এ ছাড়া সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক ও সংগঠনকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়েও বৈঠকে একমত হয়েছেন নেতারা। এ প্রক্রিয়ায় সাত দল ছাড়াও বিএনপির নেতৃত্বাধীন অংশ, ইসলামী দলের শক্তিকে সমন্বয় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সাত দলের শীর্ষ নেতারা ঐকমত্য হয়েছেন।
সূত্র আরও জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন ও বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সাতটি দল। তবে এ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক জোট হিসেবে বিবেচনা না করে সাত দলের নতুন 'রাজনৈতিক মঞ্চ' হিসেবে দেখছেন সংশ্নিষ্টরা। এই জোটের একটি নাম ঠিক করা হয়েছে, যা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। দুই সপ্তাহ পরে তারা আবার বৈঠকে বসবেন। সংশ্নিষ্ট নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। এ অবস্থায় রেখে সমমনা সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বৈঠকে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সাত দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা কেউ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। সে কারণে আমরা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করছি। নির্বাচন ও শাসনতন্ত্র প্রশ্নে কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী বৈঠকে এই কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে। মঞ্চের নাম ও কাঠামো এবং অন্যদের সংযুক্তি বিষয়েও আলোচনা চলছে। পরবর্তী বৈঠকে রাজপথের কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনা হবে। এই মঞ্চ গণআন্দোলন এবং জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকবে।