রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের ওপর দিয়ে যেসব লাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইন বন্ধ করে দিচ্ছে ইউক্রেন। 

ইউক্রেনের গ্যাস ব্যবস্থাপনা কোম্পানি জিটিএসওই জানিয়েছে, দেশটির ওপর দিয়ে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রানজিট পয়েন্ট তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই লাইন দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার রপ্তানির এক তৃতীয়াংশ গ্যাস যায়। খবর রয়টার্সের। 

রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের জন্য মস্কোকেই দায়ী করেছে জিটিএসওইউ। তারা বলেছে, ইউক্রেইনের সোখরানিভকার ওপর দিয়ে যাওয়া গ্যাস লাইন বুধবারই তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। ওই গ্যাস তারা সরবরাহ করবে অন্যত্র।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সেনা অভিযান শুরু করে। ইউক্রেনে অভিযান চালালেও দেশটির ওপর দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল মস্কো।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম দাবি করেছে, জিটিএসওইউ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বিপুল পরিমান গ্যাস সুদঝা ইন্টারসেকশন দিয়ে আরও পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া কারিগরিভাবে ‘সম্ভব না।

অন্যদিকে জিটিএসওইউ-র প্রধান নির্বাহী সের্গেই মাকোগোন বলেছেন, দখলদার রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে রাশিয়া-সমর্থিত ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলের দুটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরিয়ে নিচ্ছে। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

জিটিএসওইউর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নোভোপস্কভ গ্যাস কমপ্রেসর স্টেশন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তার বদলে জিটিএসওইউ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সুদঝা ইন্টারকানেকশন পয়েন্টের গ্যাস প্রবাহকে সাময়িকভাবে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গ্যাস কোম্পানি নাফতোগ্যাজের প্রধান ইউরি ভিতরেনকো বলেছেন, সোখরানিভকা লাইন দিয়ে গ্যাস প্রবাহ আটকে দিলেও দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। 

গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, তারা জিটিএসওইউর কাছ থেকে নোটিশ পেয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা থেকে সোখরানিভকা ইন্টারকানেকশন দিয়ে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।