কয়েক সপ্তাহের প্রতিবাদ এবং গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের প্রস্থান ঘটেছে। কোনো দেশকে দেউলিয়া ঘোষণার ব্যবস্থা নেই। তবে থাকলে মাত্র ৫ কোটি ডলার রিজার্ভ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি এক্ষেত্রে প্রথম হতো।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল চলতি সপ্তাহে কলম্বোতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেইলআউট বা পুনরুদ্ধার নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যাতে সংস্কারের একটি কঠিন প্যাকেজ এবং সেই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু আইএমএফ এবং এর সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক ভালোভাবে জানে যে এটি শুধু একটি দেশের অব্যবস্থাপনার ব্যাপার নয়। তাদের ভয় শ্রীলঙ্কা কয়লাখনির ক্যানারি। বিশ্বজুড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ত্রিমুখী সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে- মহামারি, তাদের ঋণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস গত মাসে সংস্থার এক সভায় বলেছেন, 'আমি উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা জ্বালানি, সার এবং খাদ্যে আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এর ফলে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রতিটি প্রতিক্রিয়া ওই দেশগুলোকে কঠোরভাবে আঘাত করছে।'

জাতিসংঘ সমস্যাটি পরিমাপ করার চেষ্টা করেছে। এর বাণিজ্য ও উন্নয়ন শাখা আঙ্কটাড সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের ১০৭টি দেশ তিনটি ধাক্কার মধ্যে অন্তত একটির সম্মুখীন হয়েছে। এই তিনটি ধাক্কা হলো খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আর্থিক দুরবস্থা। ৬৯টি দেশ তিনটি ধাক্কারই মুখোমুখি। এর মধ্যে আফ্রিকা ও এশিয়ার ২৫টি করে এবং প্রশান্ত ও লাতিন আমেরিকার ১৯টি দেশ রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা দীর্ঘ। আইএমএফ মিসর এবং তিউনিসিয়ার সঙ্গে উদ্ধার আলোচনা শুরু করেছে; রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে উভয় দেশই বিপুল গম আমদানিকারক। একই অবস্থা পাকিস্তানের। সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘানা, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইথিওপিয়া। আর্জেন্টিনা সম্প্রতি আইএমএফের সঙ্গে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশের মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে এল সালভাদর এবং পেরু। কয়েক মাস ধরে অনুমান করা হচ্ছিল তুরস্কের পতন হবে। দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ম্ফীতির হার ৭০%। তা সত্ত্বেও দেশটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে এবং নিজের জনগণকে খাওয়াতে সক্ষম হচ্ছে।

আঙ্কটাডের বিশ্বায়ন ও উন্নয়ন কৌশল বিভাগের পরিচালক রিচার্ড কোজুল-রাইট বলেছেন- দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ধাক্কার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। মহামারি এবং যুদ্ধের সঙ্গে এই দেশগুলোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। মূল সমস্যা হলো তাদের বিপুল ঋণ। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগেই নিম্ন আয়ের প্রায় ৬০% দেশ ঋণের যন্ত্রণায় অস্থির ছিল বা এর উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল। এভাবে ঋণের দায়ে ডুবে যাওয়া দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কাই প্রথম। তবে এটিই শেষ দেশ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।