করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের উদ্যোগ ‘হান্ড্রেড মেম্বারস ইয়ুথ ডেলিগেশন’ কার্যক্রম আবারও চালু হচ্ছে ।

রোববার ‘আমরা ফিরে আসছি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘হান্ড্রেড মেম্বারস ইয়ুথ ডেলিগেশন’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশের ১০০ সম্ভাবনাময় তরুণদের ভারত ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। যার মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণরা ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারেন, দেশটির জনগণের সঙ্গে মিশতে পারেন এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পান।

২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণরা এতে আবেদন করতে পারবেন। সেখান থেকে ১০০ জন বাছাই করা হয়। আগ্রহীরা ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করে দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শত তরুণদের জন্য এটা একটা দারুণ সুযোগ। এর ফলে তারা দেশটি সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এর মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তখন আমার বয়স ছিলো ৮ বছর। আমাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হলে আমরা পাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ঐ গ্রামটিও জ্বালিয়ে দেওয়া হলে সেখান থেকে আমরা অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলাম।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, যেহেতু আমার বাড়ি চট্টগ্রাম অঞ্চলে, সে সময় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছিল দেশটি। ভারত আমাদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছিল, সেটি রক্তের সম্পর্ক। মানুষে মানুষের সম্পর্কে এগিয়ে নিতে ইয়ুথ ডেলিগেশন ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতবর্ষ এক সময় ধনী দিলাম। ইউরোপ ও আমেরিকায় একটি ফসল হয়। ভারতবর্ষে তিনটি ফসল হয়। এজন্য আমাদের এখানে বর্গীরা এসেছিল। এরপরেই আমরা গরীব হতে শুরু করলাম। এখন সময় এসেছে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে আমরা একই সংস্কৃতি ধারণ করি। ইয়ুথ ডেলিগেশনের মাধ্যমে আমাদের ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়বে।