প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ভারতে পালিয়ে থাকার পর প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টর (ইডি)। গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রায় চারদিন হতে চললো পি কে হালদার গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি কোনো স্বজন। এমনকি তার জন্য আসেনি কোনো পোশাক। তাই তো গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই পোশাকে রয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা শীর্ষ এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

ইডি সূত্র জানিয়েছে, পি কে হালদারের নিকট আত্মীয় বা পরিচিত কেউ এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। এমনকি তার সঙ্গে একই সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া তার সহযোগীদের কোনো স্বজনও তাদের সঙ্গে দেখা করেনি। তাই এক পোশাকেই তাদের দিন পার করতে হচ্ছে।

গত শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করে ইডি। নাম পাল্টে সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করার পরই আদালতের মাধ্যমে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় ইডি।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে (স্পেশাল কোর্ট) তোলা হবে পি কে হালদারকে। তার আগে এদিন সকালে ইডির আঞ্চলিক দপ্তর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে পি কে হালদারকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে। মেডিকেল চেকআপ করে সাড়ে ৯টার দিকে ফের সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয় তাকে।


এসময় সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমের কর্মীরা প্রশ্ন করলেও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি পি কে হালদার। তবে তার ভাই প্রাণেশ হালদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

পি কে হালদারের ভাই বলেন, আমার দাদা প্রশান্ত কুমার হালদারকে ফাঁসানো হচ্ছে। তারা আমাকেও ফাঁসাচ্ছেন। এর পেছনে রাজনৈতিক যোগসাজশ আছে কিনা এটা এখনো পুরোপুরি বলতে পারছিনা। আমার বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নেই। আমার মতোই আমার দাদাও চক্রান্তের শিকার।

এর আগে গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের অন্তত নয়টি স্থানে একযোগে অভিযান চালায় ইডি। এতে কয়েকটি অভিজাত বাড়িসহ পি কের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি জব্দ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদারের ২০ থেকে ২২টি বাড়ি আছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

এর পরদিন পি কে হালদার ছাড়াও আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ইডি। এর মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। তারা হলেন- প্রীতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), উত্তম মিত্র ও স্বপন মিত্র। এছাড়াও প্রণব হালদার নামে এক ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। এরপর সঞ্জীব হালদার নামে একজনকে আটক করার কথা জানায় ইডি। তিনি পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধার জামাই। 

প্রসঙ্গত, বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেপ্তার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।