সিএনজিচালিত অটোরিকশার জমা ও ভাড়া বৃদ্ধি, বাইরের অটোরিকশা ঢাকা মহানগরে চলাচল বন্ধ করা, পুলিশের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ নয় দফা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ।

এ নিয়ে রোববার সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৫ ও ২৬ মে ধর্মঘট পালন করবেন মালিকরা।

শনিবার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঐক্য পরিষদের নেতারা। একই সময়ে ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা ডাইভার্স ইউনিয়ন প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে সাত দফা দাবিতে। তাদের প্রধান দাবি, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী পাঁচ হাজার অটোরিকশা চালকদের নামে বরাদ্দ করতে হবে।

ইউনিয়ন নেতারা ধর্মঘটের বিরোধিতা করে বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারি মালিকদের ধর্মঘটের সঙ্গে চালকদের সম্পর্ক নেই। মালিকরা দৈনিক জমার পরিমাণ বাড়াতে চান। চালকরা জমার বৃদ্ধি বিরোধী হলেও তারা ভাড়া বৃদ্ধি চান।

সবশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অটোরিকশার ভাড়া বাড়ায় সরকার। দৈনিক জমা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা করা হয়। অটোরিকশার প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়। কিলোমিটার প্রতি ভাড়া সাত টাকা ৬৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা করা হয়। যদিও যাত্রীদের ভাষ্য, ২০০২ সালে রাস্তায় নামার পর অটোরিকশা কখনোই মিটারে চলেনি।

মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের সভাপতি বরকত উল্লাহ ভুলু বলেছে, গত সাত বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে পাঁচবার। অটোরিকশার যন্ত্রাংশের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু জমা ও ভাড়া বাড়েনি। ঢাকা শহরে পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তারপরও নো পার্কিংয়ের কারণে দেদার মামলা করা হচ্ছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা জেলার অটোরিকশা পুলিশকে টাকার বিনিময়ে মহানগরীতে চলছে।

ড্রাইভার্স ইউনিয়নে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা চট্টগ্রাম অটোরিকশা শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বুলবুল বলেন, ৯০০ টাকা জমা বাস্তবায়ন করতে হবে। চালকরা আর এর বেশি দিতে পারবেন না। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে মিটারে অটোরিকশা চালিয়ে চালকের সংসার চলছে না। ঘরের আসবাব বিক্রি করে পুলিশের হয়রানিমূলক মামলার জরিমানা শোধ করছেন।