ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হয়, মস্কোর সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি কিয়েভ মানবে না। রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন তিনি। রাশিয়াকে ছাড় দিলে তা ইউক্রেনের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, 'ছাড় দিলেও যুদ্ধ থামবে না। হয়তো কিছু সময়ের জন্য তা স্থগিত থাকতে পারে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে রাশিয়া আরও তীব্রভাবে আক্রমণ করতে পারে, যা হবে আরও রক্তাক্ত, আরও বড় আকারের।' কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মারিউপোলের আজভস্তালে ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের আত্মসমর্পণের পর রাশিয়া এখন দোনবাসের দুটি প্রদেশের একটি লুহানস্কে অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়েছে। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনবাসের বাকি অংশটুকুও কব্জা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছে কিয়েভ। অবশ্য ২৪ ফেব্রুয়ারি মস্কো ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে নামার আগেই লুহানস্ক ও প্রতিবেশী দোনেৎস্কের বিশাল অংশ রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে ছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, দোনবাসের পরিস্থিতি খুবই জটিল।

রয়টার্স জানায়, রুশ সেনাবাহিনী স্লোভিয়ানস্ক ও সিভেরদোনেৎস্কে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু ইউক্রেনের বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা আটকে রেখেছে। গত শনিবার লুহানস্ক ও দোনেৎস্কে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনী জানিয়েছে, দোনবাসে হামলার তীব্রতা বাড়ার মধ্যেই তারা এক দিনে রুশ বাহিনীর ৯টি আক্রমণ প্রতিহত করেছে; ধ্বংস করেছে পাঁচটি ট্যাঙ্ক ও ১০টি সাঁজোয়া যান। তবে বিমান, কামান, ট্যাঙ্ক, রকেট, মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে রুশ বাহিনী বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেনের বাসিন্দারা।

জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের ২২ মিলিয়ন টন খাবার রপ্তানি আটকে দিয়েছে রাশিয়া। পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্টার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোয় যোগ দেওয়া নিয়ে জোটের মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

এদিকে রাশিয়াকে তার মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চলতি সপ্তাহে জাপানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তভাবে দেখা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এই খবর জানিয়েছেন। আগামী ২৪ মে টোকিওতে কোয়াডের বৈঠকের ফাঁকে মোদির সঙ্গে একান্তে দেখা করবেন বাইডেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো ভারতকে অব্যাহত চাপ দিয়ে আসছে- তারা যেন রাশিয়ার ওপর নিন্দা জানায় এবং দেশটির ঘনিষ্ঠ হওয়া থেকে দূরে থাকে। তবে এর কোনোটাই এখন পর্যন্ত করেনি ভারত। সূত্র :বিবিসি, সিএনএন।