ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘নির্বোধ, রক্তক্ষয়ী এবং সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ মন্তব্য করে পদত্যাগ করা রাশিয়ান কূটনীতিক বরিস বোন্ডারেভ পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বলেছেন, পদত্যাগের কারণ হলো ফেব্রুয়ারির পর থেকে আমার সরকার যা করে আসছে আমি খুব জোরালোভাবে তাতে দ্বিমত পোষণ করেছি এবং সমর্থন জানাইনি। আমি আর তাতে সহযোগিতা করতে চাইনি তাই পদত্যাগ করেছি।    

বোন্ডারেভ বলেন, এর কোনো বিকল্প দেখিনি তাই পদত্যাগ করেছি। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন এই খবর দিয়েছে। বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন আক্রমণে তিনি ব্যথিত হলেও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার মতো একই অনুভূতির লোকজন খুব বেশি নেই।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ মানুষ, বেশিরভাগই তাদের কর্তারা যা বলছেন তা অনুসরণ করছে এবং তাদের প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস করছেন। 

বোন্ডারেভ বলেন, আপনি যখন মন্ত্রণালয়ে কাজ করবেন তখন একটি কাঠামোতে কাজ করবেন। সুতরাং আপনাকে আপনার উপরের কর্তা যা বলবেন তা মানতে বাধ্য থাকবেন এবং অনেক বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে যেকোনো ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উত্থান হলে তা মুছে ফেলা হয়েছে। 

তিনি এও বলেছেন তার পদত্যাগে কোনো কিছুর পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, এটা সম্ভবত বড় কোনো দেয়ালের ছোট্ট একটি ইট যা পরবর্তীতে লাগিয়ে নেওয়া হবে। 

বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল রাশিয়ানরা তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচনা করবে-বিষয়টি তিনি ভাবেন কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, আমি মনে করি ইতোমধ্যে তারা তা ভাবতে শুরু করেছে। 

প্রসঙ্গত, সোমবার ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘নির্বোধ, রক্তক্ষয়ী এবং সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়’ মন্তব্য করে জাতিসংঘের জেনেভায় নিযুক্ত রাশিয়ান কাউন্সিলর বরিস বোন্ডারেভ পদত্যাগ করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে ভিন্ন মত পোষণ করে তিনিই রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক যিনি দেশের পক্ষে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। 

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, তিনি তার ২০ বছরের বেশি পেশাগত জীবনে দেশের পররাষ্ট্র নীতির ‘বিভিন্ন বাঁক’ দেখেছেন কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারির মতো কখনো দেশের জন্য এমন লজ্জিত হননি।