এবার গণকমিশনের নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের নেতারা। সোমবার এক স্মারকলিপিতে তাঁরা গণকমিশনের পৃষ্ঠপোষক একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব, তাঁদের তহবিলের উৎস ও কমিটির নেতাদের সম্পদ অনুসন্ধানের দাবি জানান।

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১৬ জন 'ধর্ম ব্যবসায়ী' ও 'মৌলবাদী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত এক হাজার মাদ্রাসার নামের তালিকার শ্বেতপত্র গত ১১ মে দুদকে জমা দেয় গণকমিশন। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে ওই 'শ্বেতপত্র' জমা দেওয়ার দিনই ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানায়।

সোমবার ইসলামী কালচারাল ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা গাজীপুর দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শ্বেতপত্রের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন দুদক সচিব মাহবুব হোসেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওই শ্বেতপত্রের তদন্ত, তদন্তের বিষয় ইত্যাদি নিয়ে দেশে তুমুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমে বলেছেন, এই গণকমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আইনি ভিত্তি না থাকার পরও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শ্বেতপত্র প্রকাশে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। আইনি ভিত্তিহীন এমন কাজে তাঁদের পানির মতো অর্থ খরচের বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হয় না।

এতে আরও বলা হয়, দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকার পরও গণকমিশনের নেতাদের বিলাসী জীবন যাপনের পরিপ্রেক্ষিতে বলা চলে, তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে কাজটি করেছে। তাই দুদকের প্রতি তাঁদের অনুরোধ, গণকমিশনের সচিবালয় কাদের অর্থে পরিচালিত হয়, কারা কেমন সুবিধা ভোগ করেন, সেখানে সন্দেহজনক কোনো লেনদেন হয় কিনা- তা খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।