যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তাইওয়ানের বিষয়ে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতার’ যে নীতি ওয়াশিংটন অনুসরণ করে আসছে তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তাইওয়ানকে রক্ষায় সামরিক হস্তক্ষেপ করার কথা বলার একদিন পর মঙ্গলবার সুর বদলে এ কথা বলেন বাইডেন। খবর রয়টার্সের।

এদিন বাইডেনকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো বদল এসেছে কিনা?

জবাবে তিনি বলেন, ‘না’।

বাইডেন বলেন, নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গতকাল যখন আমি আমার বক্তব্য দিয়েছিলাম তখন আমি তা বলেছিলাম।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে অংশ নেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি তাইওয়ান চীনের আক্রমণের শিকার হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। তাইওয়ানকে রক্ষার জন্য ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি’। যুক্তরাষ্ট্র ‘এক চীন নীতি’তে রাজি হয়েছে— এর অর্থ হলো, চীন একটিই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে—‘তাইওয়ানকে বল প্রয়োগ করে দখল করা যেতে পারে’ এ ধারণাটি ‘ঠিক নয়’।  এটি ইউক্রেনে যা ঘটছে তারই মতো একটি ঘটনা হবে।

এদিকে তার এ বক্তব্যের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সেদিন বলেছিলেন, চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সংক্রান্ত বিষয়ে আপস বা ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখে। এ কারণে দ্বীপটির কাছেই গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সামরিক কার্যক্রম জারি রেখেছে চীন। তবে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তাইওয়ান চীনের এ ধরনের কোনো বিষয়ের কথা জানায়নি।

১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে হেরে সে সময়ের চীনা সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে আসে। সেখানে তারা ‘রিপাবলিক অব চায়না’ নামে এক সরকার গঠন করে। নিজেদের সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার বলেও দাবি করে তারা।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন চীনের দাবির তীব্র বিরোধী। তিনি তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই মনে করেন।