বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট এড়াতে ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি চালুর জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিসলে বলেছিলেন, ইউক্রেনের বন্দরগুলো বন্ধ রাখার ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তবে এসব বন্দর খুলে দেওয়ার বিনিময়ে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার শর্ত দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো গতকাল বুধবার বলেছেন, বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট এড়ানোর একটি উপায় রয়েছে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর কারণে মস্কোর ওপর আরোপ করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তিনি বলেন, 'খাদ্য সমস্যা সমাধানে অচিরেই রাশিয়ার রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনের ওপর আরোপ করা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এ জন্য একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।' রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি ও খাদ্য সংকট। এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন বিশ্বনেতারা।

রাশিয়াকে সমুচিত জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, 'সবাই একজোট হলে আগ্রাসনকারীদের উচিত শিক্ষা দেওয়া যেত। সমস্যা হচ্ছে, আমাদের মধ্যে অনৈক্য চরমে। কিয়েভকে সাহায্য করার বেলায় সবকটি দেশই দ্বিধায় ভোগে। অথচ ইউক্রেনের এখন আরও বেশি সাহায্য প্রয়োজন।' এ সময় তিনি বলেন, রাশিয়ান সৈন্যরা পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রসর হয়েছে এবং প্রধান শহরগুলোতে সবকিছু ধ্বংস করার জন্য হামলা চালাচ্ছে। তারা দোনবাসকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চাচ্ছে। লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সের্হি গাইদাই বলেছেন, রাশিয়ান বাহিনী প্রদেশটির ওপর জোরালো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইউক্রেনে আরও অগ্রসর হতে চায়। তারা শিল্প শহর সিভিয়ারোদোনেৎস্কে হামলা চালিয়েছে, সেখানে ছয় বেসামরিক লোক নিহত এবং কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রের কাছেই বেশিরভাগ বোমা বিস্ম্ফোরিত হয়েছে। এ মুহূর্তে আর্টিলারির মাধ্যমে রুশ সেনারা সিভিয়ারোদোনেৎস্কে হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেনের হাতে পোল্যান্ড সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্ক তুলে দিলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে বলে অঙ্গীকার করেছিল জার্মানি। তবে জার্মানির বিরুদ্ধে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আনজেই দুদা। তিনি বলেন, 'জার্মানির আশ্বাসের ভিত্তিতে পোল্যান্ড এপ্রিল মাসেই ইউক্রেনে বেশ কিছু 'টি-৭২' ট্যাঙ্ক পাঠিয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জার্মানি মোটেই পোল্যান্ডকে ট্যাঙ্ক সরবরাহ করছে না। এ প্রসঙ্গে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, পোল্যান্ড জার্মানির কাছে সর্বাধুনিক লেপার্ড ট্যাঙ্ক দাবি করেছে।

আমেরিকান বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস সতর্ক করেছেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করতে পারে এবং এই যুদ্ধে সভ্যতা টিকে থাকবে না। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বিশ্বকে অবশ্যই এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে এবং সভ্যতা রক্ষার একমাত্র উপায় হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভদ্মাদিমির পুতিনকে পরাজিত করা। তিনি আরও বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ান ভদ্মাদিমির পুতিন এমন একটি জোটে যুক্ত, যার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমার ধারণা, পুতিন যে ইউক্রেনে হামলা করবেন, তা শি আগে থেকেই জানতেন। সূত্র :বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, রয়টার্স ও এএফপি।