এবার যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার তুলসা এলাকায় এক বন্দুকধারী একটি রাইফেল ও হ্যান্ডগান (হাতে নিয়ন্ত্রিত বন্দুক) নিয়ে এক মেডিকেল ভবনে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছেন। এতে চার জন নিহত হয়েছেন। বুধবারের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক ভাবে ঘটতে থাকা বন্দুক সহিংসতার সর্বশেষ  ঘটনা।

তুলসা এলাকার উপপুলিশ প্রধান এরিক ডালগ্লিশ ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী এসটি ফ্রান্সিস হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নিজের চালানো গুলিতে বিদ্ধ হয়ে বন্দুকধারীও নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।  

এরিক ডালগ্লিশ আরও বলেন, পুলিশ বন্দুকধারীর পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তার বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। 

আল-জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বুধবার বিকেলে এসটি ফ্রান্সিস হাসপাতাল এলাকার নাটালি মেডিকেল ভবনে হামলা হয়েছে এমন খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ওই এলাকায় জন সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়। নাটালি মেডিকেল ভবনে একটি সার্জারি সেন্টার এবং একটি ব্রেস্ট হেল্থ সেন্টার রয়েছে। 

তুলসা এলাকার বাসিন্দা নিকোলাস ও’ব্রায়েন। যখন গুলির ঘটনা ঘটে তখন তার মা নাটালি মেডিকেল ভবনের কাছের একটি ভবনে ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। 

নিকোলাস সাংবাদিকদের বলেন, তারা (পুলিশ) লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছিল। আমি জানি না তাদের মধ্যে কেউ আহত ছিলেন কিনা বা গুলি চলাকালীন কেউ আহত হয়েছিলেন কিনা। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন ভালো করে হাঁটতে পারছিলেন না। তারা হোঁচট খাচ্ছিলেন এবং কোনোরকমে হেঁটে সেখান থেকে বের হচ্ছিলেন। 

তিনি বলেন, আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। এরপর আমি এখানে আসি এবং তিনি (মা) ঠিক আছেন বলে জানতে পারি। বন্দুকধারীও গুলিতে নিহত হয়েছেন। খুব ভালো লাগলো। যা ঘটেছে তা ভয়ঙ্কর। 

এদিকে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তুলসার এই গুলির ঘটনার খবর জো বাইডেনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তার প্রস্তাব করেছে। 

প্রসঙ্গত, আটদিন আগে ১৮ বছর বয়সী এক যুবক স্বয়ংক্রিয়  বন্দুক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি প্রাইমারি স্কুলে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে ১৯ শিশু শিক্ষার্থী এবং দুই শিক্ষক নিহত হন। টেক্সাসের ঘটনারও এক সপ্তাহ আগে এক শ্বেতাঙ্গ বাফেলো সুপারমার্কেট এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে ১০ কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান নিহত হয়।