আস্থা ভোটে দলের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। করোনার লকডাউনের সময় সব ধরনের জমায়েত ও অনুষ্ঠানাদি নিষিদ্ধ থাকলেও ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে পার্টি করা নিয়ে পার্লামেন্টে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এরই জের ধরে তার সরকারপ্রধান থাকা নিয়ে আস্থা ভোটের আয়োজন করে নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির '১৯২২ কমিটি'। এতে বরিস জনসনের পক্ষে ২১১ এবং বিপক্ষে ১৪৮ ভোট পড়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্রাডি জানিয়েছেন। ভোটের ফল পাওয়ার পর গতকাল কেবিনেটের বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি কর হ্রাস, সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।
সোমবার রাতে দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের আস্থা ভোটে এ যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন বরিস জনসন। এতে এক বছরের জন্য নিজ দলের কাছে তার নেতৃত্ব সুরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন ১৯২২ কমিটির প্রধান। বিধি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে আর আস্থা ভোট চাওয়া যাবে না। তবে একই অভিযোগে বিরোধী দলের নেতারা পুরো পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার জন্য আরেকটি অনাস্থা ভোটের ডাক দিতে পারেন বলে হুমকি দিয়েছেন। এদিকে, চেয়ার বাঁচিয়ে জনসন তাঁর বিপক্ষে ভোট দেওয়া মন্ত্রীদের দায়িত্ব রদবদল করতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
কেবিনেটের বৈঠকে জনসন বলেন, বিরোধীরা যে বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার সময় এসেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সরকারের ব্যয় কমাতে হবে। কর্তন করতে হবে কর। জনগণের ওপর চাপ কমাতে সরকারের ব্যবস্থাপনা ব্যয় হ্রাস করতে হবে। করোনার অভিঘাতে যেসব নাগরিক সংকটে পড়েছেন, তাদের সহায়তা দিতে হবে। নজর দিতে হবে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসেও।
বরিস জনসনের চেয়ার টিকে যাওয়ায় বেজায় খুশি হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমি খুবই আনন্দিত যে, জনসন এখনও প্রধানমন্ত্রী এবং ইউক্রেন তার একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারায়নি।