উন্মুক্ত স্থানে গোসলের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবারের কিশোরী ও নারীরা। টয়লেট-গোসলখানায় দরজার লক ও ওপরে ছাদ না থাকায় যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঝুঁকিতে থাকেন তারা। এ ধরনের পরিবারের ৬৮ শতাংশ নারী টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার হন।

শনিবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এ তথ্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে সংস্থাটির ওয়াশ স্পেশালিস্ট এস এম তারিকুজ্জামান বলেন, গত জানুয়ারিতে একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের চার কলোনি- ধলপুর, মালেক মেম্বর কলোনি, আই জি গেট কলোনি এবং ম্যাচ কলোনিতে ১৫টি গোসলখানা স্থাপনের কাজ করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)।

এ সময় চার কলোনির মেয়েদের নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়। যেখানে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪১৭ জন মেয়ে উত্তরদাতা ছিলেন এবং ১২টি দলীয় আলোচনা হয়।

৯৮ শতাংশ নারীই বলেছেন, তারা উন্মুক্ত গোসলখানা ব্যবহার করে থাকেন নিত্যদিন। এর মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ গোসলখানায় নারীদের জন্য পৃথক জায়গা রয়েছে, অর্থাৎ শুধু নারীরাই সেখানে গোসলের কাজ সারেন। প্রতিটি গোসলখানার বিপরীতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা গড়ে ৩৫ থেকে ৪৫ জন। সর্বোচ্চ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ এবং সর্বনিম্ন ২০।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোসলখানাগুলো নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। আশেপাশের উঁচু দালানকোঠা থেকে ছবিগ্রহণের মত ঘটনাও ঘটে। তারা রাতে টয়লেটে যেতে ভয় পান। ৬৮.৬ শতাংশ কিশোরী ও যুব নারীরা বলেন, তারা টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে কোনো না কোনো সময় সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ৭৯.২ শতাংশ নারী মৌখিক সহিংসতার শিকার ও ১৩.৪ শতাংশ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা বলেন, পুরুষ ও নারীদের একই সঙ্গে গোসলের কাজ সারতে হয় বলে গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয়।