বাংলাদেশের অহঙ্কার, গর্ব এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন লাইভ দেখার আয়োজন করা হয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে। শনিবার উপদূতাবাসের বাংলাদেশ গ্যালারিতে বিশাল এলইডি স্ক্রিনে বাংলাদেশ থেকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন লাইভ দেখেন কলকাতা উপ-দূতাবাসের আধিকারিক কর্মচারী এবং কলকাতার বিশিষ্টজনরা। ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ থেকে একটানা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন এবং সুধী সমাবেশের লাইভ সরাসরি দেখানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তখন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে হল। লাইভ দেখা অনুষ্ঠানে এদিন উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উপদূতাবাসের উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, কাউন্সিলর কনসিলার মোহাম্মদ বসিরউদ্দিন, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশীষ শুর সহ উপদূতাবাসের কর্মচারীরা।

এ সময় শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেন, ‘আমি সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলবো যে, ভারতের অজস্র মানুষ বাংলাদেশে যেতে চান, আবার বাংলাদেশের মানুষ এখানে আসতে চান। ফলে পর্যটন দিক থেকে যেমন উন্নতি হবে, তেমনি অর্থনৈতিক পণ্য পরিবহনের দিক থেকে বিশাল সুযোগ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে দুই দেশের মানুষ একে অপরকে আরও ভালো করে জানতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। এতে যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে সেটা অপরিসীম। সেটাই আমি মনে করি এইটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমাদের দেশের পক্ষে একটা নতুন স্বপ্নের উন্মোচন।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ব বাংলাদেশ আমার জন্মস্থান। ফলে আমার জন্মস্থান বদলাবে না। মৃত্যু কোথায় হবে আমি জানি না, তবে পূর্ব বাংলার মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, পশ্চিমবাংলার মানুষ অনেক জানতে চান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পূর্ববাংলা কিভাবে এগিয়ে চলেছে সেটা জেনে তারা গর্বিত বোধ করবেন।’

চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘আমি আলোড়িত হয়ে গেছি। কারণ, পদ্মা সেতু নির্মাণ যেভাবে হয়েছে এটা আমাদের সকলের কাছে প্রতীক। প্রত্যয় থাকলে, ভালোবাসা থাকলে, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে, এটা করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই আমি সেখানে শুটিং করতে গিয়েছিলাম, পদ্মা সেতুর ছবি তুলেছিলাম। তখনই আমার মনে হচ্ছিল পদ্মার বুকে দাঁড়িয়ে এরকম বড় মাপের একটি সেতু নির্মাণ অসাধারণ কাজ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি স্যালুট জানাই। কারণ তার নেতৃত্বে এত বাধা, বিপত্তি সত্বেও এটা সম্ভব হয়েছে।’

কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশীষ সুর বলেন, ‘পদ্মা সেতুর গুরুত্ব যে কত বড় সেটা আমরা ভবিষ্যতে বুঝতে পারবো। এটা শুধুমাত্র একটি প্রকৌশল, অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস বা সাবলম্বী হওয়ার নিদর্শন নয়। এটার মাত্রা অনেক বড়। এর ফলে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ মানুষের চলাচলের ব্যাপক সুবিধা হবে। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য চলাচল এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের অন্য রাজ্যে পণ্য চলাচল ও যাত্রী চলাচলের সময় কমে যাবে, সুবিধা হবে আমাদের সকলের।’

কলকাতা উপহাইকমিশনের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, ‘এই সেতুর ফলে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সংস্কৃতি, আবেগ, গর্ব-এই সম্পর্ক গুলোর শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল- এগুলো সব কিছু অতিক্রম করে আজ পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

এদিকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে কলকাতার আটটি পয়েন্টে পদ্মা সেতুর লাইভ উদ্বোধন দেখানো সম্ভব না হলেও সকাল নয়টা থেকে সব বিলবোর্ডে ভেসে ওঠে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের নানান মুহূর্ত।