বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পরও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা আরও কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি ডব্লিউটিওর ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ বিষয়ে সব দেশ একমত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ডব্লিউটিওর ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ডব্লিউটিওর সম্মেলনে বাংলাদেশ বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোরালো দাবি তুলে ধরে। প্রথমে ১২ বছর এ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও পরে ৬ থেকে ৯ বছরের দাবি জোরালো হয়েছে। সম্মেলনের এক পর্যায়ে বৈশ্বিক সংকটকালীন এ উত্তরণযোগ্য ও উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাপ্ত সুবিধা আরও কিছু সময় পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা আছে বলে সবাই একমত হয়। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে মৎস্য খাতে ভর্তুকির বিষয়ে একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। মাছ ধরার অবৈধ নৌযানে কোনো ভর্তুকি দেওয়া যাবে না এবং প্রয়োজনের বেশি মাছ ধরা যাবে না। এলডিসিভুক্ত কোনো দেশ এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সে দেশের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। এ ছাড়া করোনা এবং ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলা করার জন্য সংশ্নিষ্ট খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য ট্রিপস চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্য সহজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।