প্রায় ২৭ মাস পর সড়কপথে সৌহার্দ্য বাস সার্ভিসের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হলো ঢাকা-আগরতলা। প্রথম যাত্রাতে কলকাতা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবে ঢাকায়। এতে ঢাকা-কলকাতার দূরত্ব কমবে প্রায় ৪ ঘণ্টার। 

আজ সোমবার সকাল সাতটায় কলকাতা সংলগ্ন সল্টলেকের করুণাময়ীর শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বাস। যাত্রী ছিলেন মাত্র ১৬ জন। দুপুর সাড়ে ১২টায় কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলার উদ্দেশে ছাড়ার কথা দ্বিতীয় বাস। 

প্রতি সোম, বুধ ও শুক্রবার কলকাতা-ঢাকা রুটে সরাসরি চলবে সৌহার্দ্য বাস। আর কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা রুটে চলবে সপ্তাহে সাতদিনই। 

দীর্ঘ ২৭ মাসের ব্যবধানে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়লেও বাড়ানো হয়নি টিকিটের দাম। কলকাতা থেকে ঢাকার ভাড়া পড়বে ভারতীয় মুদ্রায় ১৪০০ টাকা। কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে আগরতলার ভাড়া পড়বে ভারতীয় মুদ্রায় ১৮০০ টাকা।   


পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যেতে পেরে উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা। ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতা থেকে বাসে করে ১২ জনের একটি মডেলিং টিম যাচ্ছে। পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত তারা। উচ্ছ্বাস গোপন রাখতে পারেননি সৌহার্দ্য বাস পরিষেবার উদ্যোক্তা শ্যামলী পরিবহনের কর্ণধার অবনী ঘোষও। প্রথম যাত্রাতেই স্ত্রী, সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে নিজেই রওনা দেন তিনি। 

অবনী ঘোষ বলেন, যাত্রী চাহিদা বাড়লে বাড়ানো হবে বাসের সংখ্যাও। যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখে টিকিটের দাম বাড়াইনি আমরা। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সল্টলেক করুণাময়ী আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালকে আমরা নতুন করে সাজিয়ে তুলেছি। 

২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা অতিমারির কারণে বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা-ঢাকা সরাসরি সৌহার্দ্য বাস পরিষেবা। এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা রুটে শুরু হয় বাস ত্রিপুরা স্টেটস ট্রান্সপোর্ট এবং রয়েল কোচের যৌথ উদ্যোগে সরাসরি বাস পরিষেবা। ১১ জুন শুরু হয় ঢাকা-কলকাতা থেকে সরাসরি বাস পরিষেবা। 

১৯৯৯ সালের ১৯ জুন কলকাতা-ঢাকার মধ্যে প্রথম শুরু হয়েছিল যাত্রীবাহী বাস চলাচল। এরপর ২০১৫ সালের ৬ জুন আগরতলা থেকে কলকাতার মধ্যে শুরু হয়েছিল যাত্রীবাহী বাস চলাচল।