যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে উপসাগরী দেশ কাতারে। দুই দেশের মধ্যে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈপরীত্য ঘুচাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় হবে এ বৈঠক।

ইরানের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত নূর নিউজ টুইটারে রোববার একটি বিবৃতি পোস্ট করে। সেখানে লেখা হয়, উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর চেয়ে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে আসন্ন বৈঠক আয়োজনে কাতারের ‘ভালো সুযোগ’ রয়েছে। 

ভিয়েনায় পরমাণু আলোচনায় তিন মাসের যে অচলাবস্থা তা ভাঙার বিষয়ে ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একমত হওয়ার একদিন পর এ খবর জানা গেল।

তেহরানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি শামখানির সঙ্গে বৈঠক করেন। টানা বৈঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক ঘোষণা দেন, সামনের দিনে পরবর্তী ধাপের আলোচনা পারস্য উপসাগরীয় দেশে অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ভিয়েনায় হওয়া আলোচনা থেকে ভিন্ন পদ্ধতিতে।

বোরেল বলেন, আসন্ন বৈঠক হবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইইউর দলের মধ্যস্থতায়। অর্থনৈতিক ও পরমাণু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়েছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ‘রাজনৈতিক জটিলতা’ দেখা দিয়েছে। আমি এখনও নিশ্চিত নই যে, দুই পক্ষ এ রাজনৈতিক জটিলতা দূর করতে পারবে কিনা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতভেদ অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছে— ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন চুক্তি থেকে বের হয়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা চাওয়ার বিষয়গুলো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান যদিও কোথায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সেটি জানাননি। এমনকি কোনদিন হবে এ বৈঠক সে বিষয়েও কিছু বলেননি। এর মধ্যে জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে, ইরানের মিত্র কাতার বা ওমান হতে পারে বৈঠকের স্থান।

প্রাসঙ্গিকভাবে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি গত মাসে তেহরান সফর করেছেন। সেখানে পরমাণু চুক্তির বিষয়সহ নানা বিষয়ে বৃহত্তর পরিসরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে আলোচনা করেন।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাতারের নেতা বলেন, আমার দেশের ‘সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল’ ভিয়েনায় আলোচনা সম্পর্কে এবং চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনাই একমাত্র পথ।

এ সফরের পর থেকে ভিয়েনায় আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙা এবং বিদেশে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ উদ্ধারে কাতারের শাসকের মধ্যস্থতা করার বিষয়টি নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। 

মজার বিষয় হলো, এমন সময় তিনি তেহরান সফর করেছেন যার একদিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপপ্রধান এনরিকে মোরা এসেছিলেন শহরটিতে।

তবে কাতারেই আসলে বৈঠক হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।