আবার বেড়েছে পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে লঞ্চভাড়া। পদ্মা সেতু চালুর এক সপ্তাহ আগে এ পথে চলাচলকারী সব লঞ্চের ভাড়া কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোমবার থেকে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন যাত্রীরা।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দিন থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। লঞ্চে যাত্রী কমে যাওয়ার আশঙ্কায় পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সপ্তাহখানেক আগে ১৯ জুন ভাড়া কমিয়ে দেয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তখন প্রথম শ্রেণির ডাবল কেবিনে লঞ্চভেদে ৬০০ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনে ৩০০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা ধার্য করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে মোট ১০টি লঞ্চ রোটেশন পদ্ধতিতে চলাচল করে। প্রতিদিন দুটি করে লঞ্চ ঢাকা ও পটুয়াখালী প্রান্ত থেকে ছাড়ে। লঞ্চগুলো হলো এমভি সুন্দরবন-১৪, এমভি সুন্দরবন-৯, এমভি এ.আর খান-১, এমভি কুয়াকাটা-১, এমভি কাজল-৭, এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭, এমভি জামাল-৫, এমভি কামাল খান-১, এমভি পুবালী-১২ ও এমভি সত্তার খান।

এখন এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭ ও এমভি পুবালী-১২ কর্তৃপক্ষ আগের ভাড়া বহাল রেখে ডাবল কেবিন ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৫০০ টাকা ধার্য করে। এমভি সত্তার খান কর্তৃপক্ষ ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা ধার্য করে। এ ছাড়া অন্য লঞ্চগুলো সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকাই বহাল রেখেছে সব লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিকেলে লঞ্চঘাটে দেখা যায়, এমভি সুন্দরবন-১৪, এমভি পুবালী-১২ ও এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭ লঞ্চ তিনটি পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এমভি পুবালী-১২ ও এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭ লঞ্চে ডাবল কেবিন ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। এমভি সুন্দরবন-১৪ লঞ্চে ডাবল কেবিনে নিয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

ঢাকাগামী প্রথম শ্রেণির কেবিন যাত্রী মো. আল-আমিন বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই তো সেদিন ঢাকা থেকে আসার সময় ২ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া দিলাম। আজ সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা হয়ে গেল। এটা কী করে সম্ভব?’

দুপুরে ঢাকা থেকে সড়কপথে পটুয়াখালীতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ওপর জুলুম করছে। লঞ্চে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জানতে পারি লঞ্চে ফের ভাড়া বাড়িয়েছে। তাই বাসে চলে এসেছি এবং পাঁচ ঘণ্টায় পটুয়াখালী।’

ভাড়া বাড়ার বিষয়ে এমভি সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের পটুয়াখালীর বুকিং ইনচার্জ মো. জাফর আহমেদ বলেন, ‘পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ভাড়া বাড়েনি। কোরবানি ঈদের কারণে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী ফেরার পথে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে ঈদের পর এ ভাড়া নাও থাকতে পারে।’

এমভি আওলাদ-৭ লঞ্চের পটুয়াখালীর বুকিং ইনচার্জ মো. আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের লঞ্চসহ আরও কয়েকটি লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এসব লঞ্চের গুণগত মান ভালো থাকায় অন্য লঞ্চের চেয়ে ভাড়া একটু বেশিই। কোরবানি ঈদের পর কী হবে, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এমভি কুয়াকাটা-১ লঞ্চের পটুয়াখালীর বুকিং ইনচার্জ মো. সুমন মৃধা বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে লঞ্চের যে ভাড়া কমানো হয়েছিল, তা মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে করা হয়নি। আমরা বুকিং ইনচার্জ ও লঞ্চ স্টাফ মিলে এটা করেছিলাম। তবে বিষয়টি মালিকপক্ষ অবগত ছিল। এখন মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তে আগের ভাড়াই ধার্য করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর প্রভাব খুব বেশি দিন থাকবে না। সবার একবার দেখা হয়ে গেলে যাত্রীরা ফের লঞ্চেই আরামদায়ক যাতায়াত করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

পটুয়াখালী নদীবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মামুন অর রশিদ জানান, ঈদ উপলক্ষে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দৈনিক যেসব লঞ্চ সার্ভিস আছে, তাতেই তো যাত্রীর চাপ নেই। সেখানে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস চালু করে কী লাভ?

তিনি আরও জানান, পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে সরকারি ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। এর বাইরে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাড়াতেও পারে বা কমাতেও পারে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি নেওয়া বা তাদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা নেই।