শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নয় বরং একটি দেউলিয়া দেশ হিসেবে আমরা আইএমএফের সঙ্গে ঋণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। খবর সিএনএনের।

ইতিহাসের ভয়াবহতম অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ মুহূর্তে ঋণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন বিক্রমাসিংহে। 

তিনি বলেন, আমরা এখন একটি দেউলিয়া দেশ হিসেবে আইএমএফের সঙ্গে দর কষাকষি করছি। ফলে অতীতের আলোচনার তুলনায় এখন আমাদের অনেক বেশি কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

‘যেহেতু আমাদের দেশের দেউলিয়া অবস্থা তাই আমাদের ঋণের স্থায়িত্বের জন্য আলাদাভাবে আইএমএফের কছে একটি পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। যখন তারা আমাদের জমা দেওয়া পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হতে পারবে শুধুমাত্র তখন আমরা স্টাফ পর্যায়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে পারব। এটি সরাসরি কোনো প্রক্রিয়া নয়’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আরও বলেন, তিনি আশা করেছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে তারা ঋণ পুনর্গঠন এবং স্থায়িত্ব সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আইএমএফের কাছে জমা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, একবার একটি চুক্তি হলে চার বছরের জন্য একটি ব্যাপক ঋণ সহায়তা কর্মসূচি প্রস্তুত করা হবে।

এদিন পার্লামন্টে দেশবাসীর জন্য কোনো আশার কথা শোনাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। বরং বলেছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি ৬০ শতাংশে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, এটি খুবই কঠিন এবং তিক্ত পথ চলা হতে চলেছে। কিন্তু এই পথ চলার শেষ আমরা মুক্তি পাব। অগ্রগতি হবে।

২২ মিলিয়ন মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কা ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পার করছে। জরুরি আমদানি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার মতো অর্থ দেশটির হাতে নেই। জ্বালানি, খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ।