ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে অনবরত হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। লুহানস্কের পর দক্ষিণের দোনেৎস্ক এলাকাও দখলের সর্বোচ্চ চেষ্টা তাদের, বেড়েছে গোলাবর্ষণ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বুধবার দাবি করেছেন, দোনেৎস্কের উত্তরাংশে রুশ বাহিনী অগ্রসরের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে স্লোভিয়ানস্ক শহর ও অন্যান্য বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। এদিকে, দোনেৎস্কের ক্রামতোস্কে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুটি উন্নত রকেট সিস্টেম ও গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস করেছে রুশ বাহিনী, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এ দাবি করেছে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলেই রুশ হামলা সীমাবদ্ধ থাকছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, পশ্চিম খমেলনিতস্কি অঞ্চল, দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের কেন্দ্রীয় অঞ্চল, সুমির সীমান্ত অঞ্চল, কৃষ্ণ সাগরের বন্দরনগরী মিকোলাইভে হামলা চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় রুশ হামলা মোকাবিলায় কিয়েভকে আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যেসব সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হয়ে আছে সেগুলো খুলতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জি২০ভুক্ত জাতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে সমর্থন না দিতে চীনকে ফের সতর্ক করবে যুক্তরাষ্ট্র। আগামীকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি২০ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হবে। যেখানে গুরুত্ব পাবে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাবসহ অন্যান্য বিষয়।

এদিকে, রাশিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও ন্যাটোতে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ সদস্য রাষ্ট্রের চুক্তি সই করেছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। তবে চূড়ান্ত সদস্যপদ পেতে সব সদস্য রাষ্ট্রের পার্লামেন্টের অনুমোদন এখনও প্রয়োজন হবে। যে প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছরও সময় লেগে যেতে পারে। এর আগে সম্প্রতি ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আপত্তি তুলে নিয়ে এই দুই দেশের সদস্যপদ পাওয়ার পথ তৈরি হয়। সূত্র :বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা ও হিন্দুস্তান টাইমস।