যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মন্ত্রিসভা সদস্যদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। গত দুই দিনে তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১১ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। বিদায় নিয়েছে আরও অনেক সহযোগী। বিরোধীরা এ সুযোগে জনসনের পদত্যাগের দাবি জোরালো করেছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদে টিকে থাকতে জোর লড়াই করতে হচ্ছে জনসনকে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। পদত্যাগপত্রে তাঁরা বরিস জনসনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ দুই মন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন আরও কয়েকজন। গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেন জনসন সরকারের আরও অন্তত ৯ মন্ত্রী। তারা হলেন- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জুলিয়া লোপেজ, বাণিজ্যমন্ত্রী লি রাউলি, শিক্ষামন্ত্রী অ্যালেক্স বুরগার্ট, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কেমি বেদেনোচ, আবাসনবিষয়কমন্ত্রী নেইল ওব্রায়েন, কর্মসংস্থানবিষয়কমন্ত্রী মিমস ডেভিস,
জুনিয়র পরিবহনমন্ত্রী লরা ট্রট, শিশু ও পরিবারবিষয়কমন্ত্রী উইল কুইন্স ও স্কুল উন্নয়নবিষয়কমন্ত্রী রবিন ওয়াকার।
কেবল মন্ত্রীরাই নন, পদত্যাগের এ তালিকায় যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন নেতা ও আমলা রয়েছেন। পদত্যাগ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান বিম অ্যাফোলামি ও সলিসিটর জেনারেল অ্যালেক্স চক। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জনসনের আরও চার সহযোগীও পদত্যাগ করেছেন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৬ মন্ত্রী ও সহযোগী পদত্যাগ করেছেন। এ সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন একাধিক মন্ত্রী।
এ পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা জনসন পদে টিকে থাকতে লড়ছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সরকার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি নাদিম জাহাবির নাম ঘোষণা করেছেন। নাদিম তাঁর সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আর শিক্ষামন্ত্রীর পদে নিয়োগ পেয়েছেন জনসনের অনুগত হিসেবে পরিচিত মিশেল ডোনেলান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে সাজিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্টিভ বার্কলে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন বিরোধীরা। লেবার পার্টি বলছে, জনসন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লেবার নেতা স্যার কেইর স্টারমার জানান, তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জনসনের 'শেষ' দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ও সাবেক চিফ হুইপ অ্যান্ডু মিচেল।
এর আগে জনসনের কঠোর সমালোচনা করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। বিতর্কিত ক্রিস পিনচারকে চিফ হুইপ পদে নিয়োগ দিতে বরিসের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানায়, জাভিদের সংসদীয় একান্ত সচিব সাকিব ভাট্টিও পদত্যাগ করেছেন।
পার্টিগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে আগে থেকেই চাপে ছিলেন জনসন। এ জন্য পার্লামেন্টে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন জনসন। তবে এবার কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।