রাশিয়া ও ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো থেকে শস্য রপ্তানি আবার শুরু করার বিষয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মন্ত্রীরা শুক্রবার আলাদাভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সাবধানতা হিসেবে তারা একই টেবিলে বসা এবং চুক্তিটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাত মেলানো এড়িয়ে গেছেন।

মধস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, এই চুক্তি কোটি কোটি মানুষকে দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া এটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেবে। খবর আল-জাজিরার। 

জাতিসংঘের মহাসচিব রাশিয়া এবং ইউক্রেনের চুক্তির প্রশংসা করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বকে ‘স্বস্তি’ দেবে।

ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে গুতেরেস বলেন, ‘আজ কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে একটি আলোকবর্তিকা দেখছি, একটি আশার আলো, একটি সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা। একটি স্বস্তির আলো যা এখন বিশ্বে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, চুক্তিটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার জন্য তিনি তুরস্কের ‘সহায়তা এবং ধৈর্যের জন্য কৃতজ্ঞ।’

চুক্তিতে যা আছে

কৃষ্ণসাগরের পূর্বপরিকল্পিত পথে পণ্যবাহী জাহাজ যাত্রা করার আগে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতে শস্য ভর্তির কাজ নিরীক্ষণ করবে তুরস্ক, ইউক্রেন ও জাতিসংঘের কর্মীদের একটি দল। ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে পেতে রাখা মাইন এড়াতে ইউক্রেনীয় নাবিকেরা জাহাজ মানচিত্র ব্যবহার করে শস্য পরিবহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিয়ে যাবে। জাহাজগুলো কৃষ্ণসাগর অতিক্রম করে তুরস্কের বসফরাস প্রণালির দিকে যাবে। জাতিসংঘ, ইউক্রেন, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলের একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র থেকে জাহাজ পর্যবেক্ষণ করবেন। ইউক্রেনে প্রবেশকারী জাহাজগুলোও একইভাবে যৌথ সমন্বয় কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হবে, যাতে তারা ইউক্রেনে অস্ত্র বহন করতে না পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন অত্যাবশ্যক শস্য পরিবহন নিযুক্ত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা বন্দরগুলোতে আক্রমণ করবে না।