বিমান হামলার বদলা নিতে ইসরায়েলে শতাধিক রকেট ছুড়েছে প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)। যদিও এর অধিকাংশই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ভূপাতিত করেছে, দাবি তেল আবিবের। খবর বিবিসির।

এর আগে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামিক জিহাদের কমান্ডার তাইসির আল-জাবারিও রয়েছেন। রয়েছে পাঁচ বছরের এক মেয়ে শিশুও।

হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইসরায়েল বলছে, পিআইজের ‘তাৎক্ষণিক হুমকির’ পরিপ্রেক্ষিতে গাজায় হামলা চালানো হয়েছে।

অপরদিকে হামলার ‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলে শতাধিক রকেট ছুড়েছে পিআইজে। এর অধিকাংশই আয়রন ডোম ভূপাতিত করেছে বলে দাবি ইসরায়েলের। যদিও রাতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, এটি গাজায় একাধিক জঙ্গি অবস্থানে রকেট হামলা পুনরায় শুরু করেছে।

শনিবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে পিআইজের ১৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২১ সালের মে মাসে ১১ দিনের যুদ্ধের পর থেকে এটি সর্বোচ্চ উত্তেজনা। গত বছরের যুদ্ধে ২৫০ জনের মতো ফিলিস্তিনি ও ডজনখানেক ইসরায়েলি নিহত হয়েছিলেন। পরে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

সে সময় মিসর মধ্যস্থতা করেছিল। এবারও তারা উত্তেজনা কমাতে পদক্ষেপন নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের হামলা। ছবি: গেটি ইমেজেস

মিসরের সংবাদমাধ্যম জানায়, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার কায়রোর কর্মকর্তারা পিআইজের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইসরায়েলের দাবি, হামলায় ‘১৫ জনের মতো সশস্ত্র ব্যক্তি’ নিহত হয়েছেন।

গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, হামলা শুরুর পর থেকে পিআইজের চারজন নিহত হয়েছেন। 

এএফপিকে গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ৭৯ জন আহত হয়েছেন।

পিআইজের সেক্রেটারি জেনারেলর জিয়াদ আল-নাখালা বলেন, আমরা এর শোধ নেব এবং একটি যুদ্ধ হবে যেখানে আমরা জিতব।

এদিকে গাজার নিয়ন্ত্রক হামাস বলছে, সশস্ত্র দলগুলো যুদ্ধের সময় ‘ঐক্যবদ্ধ’ এবং তারা চুপ থাকবে  না।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ হচ্ছে পিআইজের পশ্চিম তীরের প্রধান বাসেম সাদির গ্রেপ্তার। যাকে সোমবার রাতে জেনিন এলাকা থেকে ইসরায়েলের সেনারা গ্রেপ্তার করে। এর পরই পিআইজে ইসরায়েলের নাগরিক ও সেনাদের ওপর হামলার হুমকি দেয়।

গাজায় পিআইজে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন। এটি ইরানের মদদপুষ্ট, যার সদরদপ্তর দামেস্কে। এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বহুবার হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও পিআইজের মধ্যে পাঁচদিনব্যাপী যুদ্ধ হয়। এতে ৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আহত হন ১১১ জন। আর ৬৩ ইসরায়েলিকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।