বিপিসির লোকসান কমাতে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৪ টাকা লিটার। এছাড়া কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দেশটিতে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে শনিবার প্রতি লিটারে পেট্রোলের সর্বোচ্চ দাম ছিল মুম্বাইয়ে ১১১.৩৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৩৩ টাকা ৫২ পয়সা (১ রুপি=১.২০ টাকা হিসাবে)। একই সময় দিল্লিতে পেট্রোলের সর্বনিম্ন দাম ৯৬.৭২ রুপি রেকর্ড করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় দিল্লি থেকে এক লিটার পেট্রোল কিনতে লাগবে ১১৫ টাকা ৯৭ পয়সা। এদিন কলকাতায় পেট্রোলের দাম ছিল ১০৬.০৩ রুপি বা ১২৭ টাকা ১৪ পয়সা।

এই হিসাব অনুযায়ী, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও দিল্লি ও কলকাতা থেকে ভারতীয়রা বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে পেট্রোল কিনতে সক্ষম হয়েছেন।

ভারতে প্রতিদিন রাত ১২টার পর আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের দাম হিসাবে সমন্বয় করা হয় পেট্রো পণ্যের দাম। সেই হিসাব অনুযায়ী শনিবার দেশটির মুম্বাইয়ে ডিজেলের সর্বোচ্চ দাম ৯৭.২৮ রুপি (১১৬.৬৪ টাকা) রেকর্ড করা হয়। পেট্রোলের মতো ডিজেলেরও সর্বনিম্ন দাম দিল্লিতে। এদিন দেশটির রাজধানীতে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৮৯.৬২ রুপিতে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি ১০৭ টাকা ৫১ পয়সায় দিল্লি থেকে এক লিটার ডিজেল ক্রয় করা সম্ভব। কলকাতায় শনিবার ডিজেলের দাম ছিল ৯২.৭৬ রুপি বা ১১১.২২ টাকা।

এই হিসাব অনুযায়ী, মুম্বাইয়ে ডিজেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও দিল্লি ও কলকাতা থেকে ভারতীয়রা বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে ডিজেল কিনতে সক্ষম হয়েছেন।

এর আগে গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরে পেট্রোলের জন্য সর্বোচ্চ ১২২.৩২ রুপি প্রতি লিটারে এবং ডিজেলের জন্য ১১৩.২১ রুপি দিয়েছে ভারতীয়রা। সম্প্রতি পেট্রোপণ্যের ওপর থেকে সরকারের ট্যাক্স ছাড় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোপণ্যের দাম কমায় নতুন দাম সমন্বয় করেছে ভারত। 

ব্যাপক দাম বৃদ্ধির পরে ভারতে কিছুটা দাম কমায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। গ্রাহকরা বলছে- এই দাম অনেকটাই তাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে। ভারতে পেট্রোপণ্যের ওপর ট্যাক্স ছাড় দেওয়ার পরেও বর্তমান দামের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি ট্যাক্স আদায় করে থাকে ভারত সরকার। কিন্তু এরপরও ভারতীয় নাগরিকরা পায় না ১০০ শতাংশ পেট্রোল বা ডিজেল।

ডলারের ওপর চাপ কমাতে গত কয়েক বছর ধরেই পেট্রোলের সঙ্গে ইথানোর ব্লেন্ড করে আসছে ভারত সরকার। চলতি বছর থেকে পেট্রোপণ্যের ৮০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারত সরকার।

ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পেট্রোপণ্যের সঙ্গে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ ইথানল মিশিয়ে ভারত সরকার প্রায় ৪১ হাজার কোটি রুপি সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে সক্ষম হয়। ভারত সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে বলছেন, আগামী ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে পেট্রোপণ্য ২০ শতাংশ ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে পেট্রোপণ্য আমদানির ওপর কিছুটা হলেও নির্ভরতা কমাতে পারবে ভারত।

প্রসঙ্গত, ভারতে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করা হয় ইরাক ও সৌদি আরব থেকে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দশম স্থান থেকে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার মুখে কম মূল্যে রাশিয়ার তিল কিনে লাভবান হয়েছে ভারত। এর ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারের ঊর্ধ্বগতি খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি ভারতের বাজারে। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর উচ্চহারে ট্যাক্স আদায়ের জেরে দাম কমার সুফল পাচ্ছে না ভারতের সাধারণ মানুষ।