করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রোগীই ঢাকার। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৭ জনের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৯৭ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ডেঙ্গুতে রাজধানীবাসী বেশি আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে কক্সবাজার। এ বছর মৃত্যুর ৬৪ শতাংশই কক্সবাজারের বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত জেলাটিতে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যু কিছুটা বেশি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তদের কেউ মারা যায়নি। এরপর জুনে একজন, জুলাইয়ে নয়জন এবং আগস্টের ৬ দিনে চারজনের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম ধরা হয়। তবে জুন থেকে সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা থাকে সবচেয়ে বেশি। মে মাসে একটি জরিপ প্রকাশ করে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ বাড়বে বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এর পরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এদিকে, করোনা ও ডেঙ্গুর উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় জ্বর হলে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে দৈনিক ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৫২ জন। জুনে আক্রান্ত হয় ৭৩৭ জন। জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে ১ হাজার ৫৭১ এবং আগস্টের ৬ দিনেই ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এর আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সরকারি হিসাবে ওই বছর মৃতের সংখ্যা ১৭৯। সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, এখন পর্যন্ত ঢাকাতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন উপলক্ষে বাড়ি যাওয়া মানুষের মাধ্যমে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি।