চীনের একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কা আসার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে চীনকে জাহাজটির আগমন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে বলা হয়েছে। শনিবার দেশটির সরকারি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

অ্যানালাইটিকস ওয়েবসাইট ম্যারিনট্রাফিক জানিয়েছে, ইউয়ান ওয়াং-৫ জাহাজটি বৃহস্পতিবার চীনের জিয়ানজিন বন্দর থেকে চীন পরিচালিক লঙ্কান বন্দর হাম্বানটোটায় পৌঁছার কথা ছিল। শনিবার এই খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 

জাহাজটি গবেষণা ও জরিপের কাজ করে বলে বলা হয়েছিল। তবে সিএনএন-নিউজ ১৮ এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি একটি দ্বৈত ব্যবহারের গুপ্তচর জাহাজ। যা মহাকাশ এবং উপগ্রহের গতিপথে নজরদারিতে নিযুক্ত। এ ছাড়া এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ায়ও বিশেষভাবে ব্যবহার হয়। 

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির সন্দেহ জাহাজটি তাদের কর্মকাণ্ডে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এই জন্য তারা এই ব্যাপারে কলম্বোর কাছে অভিযোগ করে। 

ভারত তার দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি যেকোনো ধরনের তৎপরতা দেশটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। 

শনিবার বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, লিখিত এক অনুরোধপত্রে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলম্বোস্থ চীনা দূতাবাসকে বলেছে, জাহাজটির ওই সফরের বিষয়ে যেন আর না আগায় চীন। 

শ্রীলঙ্কার ওই পত্রে বলা হয়, মন্ত্রণালয় আশা করছে, হাম্বানটোটায় ইউয়ান ওয়াং-৫ জাহাজটি আগমনের তারিখ এই বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হোক। 

এদিকে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে দেশটির রাজনীতিবিদদের আশ্বস্ত করেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিতর্কিত সফরগুলো আর করতে দেওয়া হবে না। 

যদিও এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মনে হয়েছিল কলম্বো ভারতের উদ্বেগের বিষয়টিকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না। কলম্বো বলেছিল, জাহাজটি কেবল পুনরায় তেল এবং মালামাল নিতে আসছে এবং এটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না। 

এর আগে ২০১৪ সালে চীনা দুটি  সাবমেরিন শ্রীলঙ্কায় নোঙর করলে ভারত এতে তীব্র আপত্তি জানায়।

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন চীন থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়। বর্তমানে দেশটি চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটে সৃষ্ট গণরোষের পড়েই গত মাসে গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন।