শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে আছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। একই দশা হয়েছে এই মামলায় অপর অভিযুক্ত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়েরও।

গত শুক্রবার তাদের আদালতে তোলে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরে পার্থ এবং অর্পিতাকে ১৪ দিনের কারাগারে রাখার  নির্দেশ দেন বিশেষ আদালতের বিচারক জীবনকুমার সাধু। আগামী ১৮ অগস্ট এই মামলায় আবারও তাঁদের আদালতে তোলা হবে। 

আপাতত প্রেসিডেন্সির সংশোধনাগারেই থাকতে হচ্ছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৃণমূলের অপসারিত মহাসচিবকে। আর অর্পিতাকে রাখা হয়েছে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারে।

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ‘পহেলা বাইশ’ ওয়ার্ডের ২ নম্বর সেলে রয়েছেন পার্থ। তার সেল লাগোয়া টয়লেট। সঙ্গে অন্য কয়েদিদের মতো বরাদ্দ কম্বল এবং টেবিল ফ্যান। এই খুপরি সেলের পাশের সেলগুলিতে পার্থের প্রতিবেশী কারা?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, পার্থের পাশের সেলেই থাকেন আফতাব আনসারি। ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতায় আমেরিকার সেন্টারে হামলায় অভিযুক্ত। ওই ঘটনায় চার জন পুলিশ কনস্টেবল এবং এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। আহত হন ২০ জন। 

আফতাবের বিরুদ্ধে আরও মামলা চলছে। আমেরিকান সেন্টারে হামলার আগের বছর খাদিমকর্তা পার্থ রায়বর্মণকে অপহরণের মূল হোতাও তিনি ছিলেন বলে অভিযোগ। আল কায়েদার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে দুবাই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।

আফতাবের পাশাপাশি সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনও জেলে পার্থের প্রতিবেশী। সিবিআইয়ের তদন্তাধীন মামলায় জেলবন্দি সুদীপ্তকে ২০১৫ সালে মে-তে গ্রেপ্তারর করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের অগস্ট থেকে পলাতক ছিলেন সুদীপ্ত। পরের বছর জম্মু ও কাশ্মীরের সোনমার্গ এলাকা থেকে তাঁর পাশাপাশি দেবযানী মুখোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ সিংহ চৌহানকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা।

সুদীপ্তরা ছাড়া পার্থের ওয়ার্ডে রয়েছেন লালগড় আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত মাওবাদী নেতা ছত্রধর মাহাতো। ২০০৮-০৯ সালে জঙ্গলমহলে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটির আন্দোলনের প্রধান ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর লালগড় থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে লালগড়ের এক সিপিএম কর্মীকে খুন-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

১০ বছরেরও বেশি কারাগারে থাকার পর কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর সাজার মেয়াদ কমানোয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। সে বছরেই তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। বিধানসভা ভোটের পরে গত বছরের ২৭ মার্চ জঙ্গলমহলে লালগড়ের আমলিয়া গ্রামে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। 

২০০৯ সালের দু’টি পুরনো মামলায় ইউএপিএ আইনের ধারা যুক্ত করে ছত্রধরকে অভিযুক্ত করা হয়। মাঝে ছেলের বিয়ের জন্য ছ’দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেলেও আবারও প্রেসিডেন্সি জেলে ফিরতে হয় তাকে। 

পার্থের জেলের ওয়ার্ডে আরও রয়েছেন রোজ ভ্যালি-কর্তা গৌতম কুন্ডুও। রোজ ভ্যালির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ হাজার কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেবি-র অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের মে-তে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

এ ছাড়া পার্থের প্রতিবেশীদের মধ্যে রয়েছেন পার্ক স্ট্রিট সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কাদের খানও। ২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিটে একটি চলন্ত গাড়িতে সুজেট জর্ডন নামে এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ জনের বিরুদ্ধে।

পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ডের চার বছর পর গ্রেটার নয়ডা থেকে গ্রেপ্তার হন কাদের। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি।