কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে রোববার শপথ নিয়েছেন গুস্তাভো পেট্রো। তিনিই দেশটির প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট। শপথ নেওয়ার পরপরই প্রতিশ্রুতি দেন- সামাজিক সমতা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই, দেশে শান্তি অর্জন এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ’ যুদ্ধের অবসানের। খবর আনাদোলুর।

তার রানিং মেট ফ্রান্সিকা মারকুয়েজ দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিনি দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট।

পেট্রো দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডানপন্থি রাজনীতিবিদ ইভান দুকুয়ে। যিনি বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং তার শাসনামলে মানবাধিকার নেতাদের ওপর সহিংসতারোধে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

পেট্রো বামপন্থি গেরিলা সংগঠন এম-১৯ এর সাবেক সদস্য এবং বগোটার মেয়র ছিলেন। যিনি ব্যাপক দারিদ্র্য ও অসমতা মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামান্য ব্যবধানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম ভাষণে পেট্রো বলেন, ‘কলম্বিয়ার ১০ শতাংশ নাগরিকের কাছে ৭০ শতাংশের সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। এটি একেবারেই অর্থহনী এবং অনৈতিক। আসুন আমরা বৈষম্য ও দারিদ্র্যকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত না করি।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন—স্পেনের রাজা ফিলিপি ষষ্ঠ, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবের্তো ফার্নান্দেজ, চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলারমো ল্যাসো এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পেরুর প্রেসিডেন্ট পেড্রো ক্যাস্টিলো এ সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন, কিন্তু বগোটা সফরের জন্য আইনপ্রণেতারা তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি তদন্ত চলছে।

পেট্রো ক্ষমতায় আসার পর কলম্বিয়ানদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে যারা তার প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি ক্ষমতায় আসার অর্থ হলো— কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ও সম্পর্ক পুনরায় স্থাপিত হওয়া।

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ৭ আগস্ট ঘোষণা করেন, যখন নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তখন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে হবে এবং কনস্যুলেট খুলে দেওয়া হবে।