যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের জেরে দ্বীপটি ঘিরে চীন নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এ মহড়া কী শুধু তাদের 'কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া' ছিল, নাকি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর আরও সুদৃঢ় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেল বেইজিং।

পেলোসির তাইওয়ান সফরের কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপদস্থ কট্টরপন্থিরা সম্ভবত খুশিই হয়েছেন। পেলোসি আদতে তাদের সামনে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি জানালা খুলে দিয়ে গেছেন এবং তারা সেটা ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ান ঘিরে চীন যে সামরিক মহড়া চালিয়েছে সেখানে 'লাইভ-ফায়ার' ড্রিল করা হয়েছে। মহড়ায় তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে চীন। এর মাধ্যমে তাইওয়ান ঘিরে চীনের একের পর এক সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার 'গ্রহণযোগ্যতা' তৈরির পট প্রস্তুত হয়েছে।

এবারের মহড়ায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে অনেক কাছে এবং অনেক বেশি সংখ্যায় যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে। এটা এখন 'নতুন সীমা' বলে বিবেচিত হচ্ছে। তার ওপর একদিন প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও তাইওয়ানকে চীনের মূলভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার যে নীতি চীন সরকারের রয়েছে, সেটি এখন অনেক বেশি বাস্তব বলে বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা চীনে বাড়বে।

শুধু তাইওয়ান নয়, এবারের মহড়ার মাধ্যমে চীন দক্ষিণ চীন সাগরের দখল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকেও তাদের সামরিক শক্তি দেখাতে পেরেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি সামরিক শক্তিতে কতটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

বেইজিংয়ের উদ্দেশ্য হলো, ২০২৪ সালে তাইওয়ানের নির্বাচনে মানুষ যেন প্রেসিডেন্ট সাইয়ের দলকে ভোট না দেয় সেজন্য তাদের ভয় দেখানো। বেইজিং চায়, তাদের বন্ধুভাবাপন্ন দল কেএমটি (কুওমিনটাং) ক্ষমতায় ফিরে আসুক। তবে বেইজিং এ রকম কৌশল আগেও ব্যবহারের চেষ্টা করেছে, তবে সে রকম সাফল্য পায়নি।

বিষয় : চীনের মহড়া

মন্তব্য করুন