স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর ক্রিমিয়ার বিমানঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রুশ যুদ্ধবিমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার দ্য স্যাকি ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হয়ে একজন। খবর বিবিসির।

বিস্ফোরণের আগে

বিস্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেনি ইউক্রেন। তবে নতুন তথ্যপ্রমাণ নির্দেশ করে যে— এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যানেট ল্যাব ঘাঁটির ছবিগুলো তুলেছে।

ছবিতে দেখা যায়, ঘাঁটির মূল রানওয়ে অক্ষত রয়েছে। অন্তত আটটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস হয়েছে। আর বেশ কয়েকটি গর্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এগুলো ঘাঁটির এমন খোলা জায়গায় যেখানে যুদ্ধবিমানের বড় অংশ রাখা হয়েছিল।

বিস্ফোরণের পরে

বিস্ফোরণের আগে ও পরে প্ল্যানেট ল্যাবের ছবিতে প্রমাণ মিলল যে, এতে ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য দুর্লভ ছিল।

তবে এখনো ঘাঁটি কী কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

রাশিয়া জোর দিয়ে বলছে, একটি গুদামে গোলাবারুদ বিস্ফোরণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেন এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, এ বিস্ফোরণের জন্য অসতর্ক সেনাদের দায়ী করা যেতে পারে।

ওলেক্সি রেজনিকভ বলেন, আমার মনে হয়, রাশিয়ার সেনারা বিমানঘাঁটিতে খুবই স্বাভাবিক একটি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। সেটি হলো— বিপজ্জনক জায়গায় ধূমপান করবেন না। এতটুকুই।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, এ বিস্ফোরণে এক ডজনের মতো রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। তবে রাশিয়া তাদের যুদ্ধবিমান ধ্বংসের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে নতুন ছবি অনুযায়ী স্পষ্ট যে, রাশিয়ার দাবি সত্য নয়।

ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলা রাশিয়া গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি ইউক্রেন ক্রিমিয়ায় হামলা করে তবে ‘তাৎক্ষণিকভাবে কেয়ামত ঘটে যাবে’।

আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশ। কিন্তু কৃষ্ণসাগরের এ উপদ্বীপ ২০১৪ সালে দখল করে নেয় রাশিয়া। অনেক ইউক্রেনীয় এটিকে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখছে।

বিস্ফোরণের পর মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনিস্ক বলেন, এ যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ইউক্রেনকে অবশ্যই এ উপদ্বীপ মুক্ত করতে হবে।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি— ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর মস্কো ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করে। এতে ক্রিমিয়াকে স্প্রিংবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের গভীরে সেনা পাঠাচ্ছে।