ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকে প্রায় চার বছর পিছিয়ে দিয়েছে। কিয়েভ আক্রমণের প্রথম তিন মাসেই রুশ অর্থনীতির এই পতন হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস। বিগত বছরগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বর্তমান জিডিপির তুলনা করে একটি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার অর্থনীতি ২০২২ সালের শুরুতে যে গতিতে ওপরের দিকে উঠছিল, পরের ত্রৈমাসিকে তা ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সংকুচিত জিডিপি ২০১৮-এর জিডিপির আকারের প্রায় সমান। আগামী বছরের প্রথমার্ধে এই গতি আরও নিম্নমুখী হবে বলে অনুমান করেছে ব্লুমবার্গ। খবর এএফপি, বিবিসি ও আলজাজিরার।

মস্কোর সরবরাহ লাইনে হামলার সক্ষমতার দাবি ইউক্রেনের: ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের একটি আর্টিলারি শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলের একটি সেতুর কাছে রাশিয়ার গোলাবারুদের ডিপোতে হামলা করেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হামলায় ভেসেলে গ্রামের ডিপোতে ১১ রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে। গ্রামটি রুশ অধিকৃত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ওই হামলার পর ইউক্রেনীয় বাহিনী দাবি করে- দখলকৃত অঞ্চলের প্রায় সবখানেই মস্কোর সরবরাহ লাইনে আক্রমণ করার ক্ষমতা রাখে কিয়েভ। গোলাবারুদের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার দাবির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র নাতালিয়া হুমেনিউক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার প্রায় সব সরবরাহ লাইন ইউক্রেনের মিসাইলের আওতায় রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, ইউক্রেন ইচ্ছামতো যে কোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম।

জরুরি ওষুধ প্রবেশ আটকে দিচ্ছে রাশিয়া: ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টোর লিয়াশস্কো জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধে রুশ বাহিনী যে অঞ্চলগুলো দখল করেছে সেখানে ওষুধ প্রবেশ আটকে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে মস্কো।

বার্তা সংস্থা এপিকে সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ছয় মাস চলছে। রাশিয়া যুদ্ধের মানবিক করিডোরের অনুমতি দেয়নি। কারণ, আমরা যেন রোগীদের জন্য ওষুধ সরবরাহ করতে না পারি।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, যুদ্ধ শেষের জন্য মস্কোর কাছে ক্রিমিয়া ফেরত চাইবে কিয়েভ। এর পাশাপাশি যুদ্ধ শুরু করা রুশ নেতাদের শাস্তিও চাওয়া হবে।

তিনি বলেন, 'রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল।' এদিকে দখলকৃত অঞ্চলগুলোয় রুশ বাহিনী জরুরি ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে ইউক্রেন।