আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের লুহানস্কসহ বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নিয়েছে রাশিয়া। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দোনেৎস্ক অঞ্চলে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না রুশ সেনারা। তবে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতি ছয় মাসে পড়া এ লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দোনেৎস্ক।

কিয়েভ বলছে, দোনেৎস্কের বেশ কিছু শহরে হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা এবং তারা সামনে আগানোর চেষ্টা করছে। যদিও তাদের হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেনীয় সেনারা। খবর রয়টার্সের।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ডজনখানেক শহরে গোলাবর্ষণ করেছে রাশিয়ার সেনারা। বিশেষ করে খেরসন অঞ্চলে, যা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

যদিও ইউক্রেনের দাবি, ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ক্রমাগত দখল করছে তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে গোলাবর্ষণের কারণে জাপোরিঝজিয়া পরমাণু বিদ্যুকেন্দ্র অধিকতর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখানে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছে মস্কো ও কিয়েভ।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস জাপোরিঝজিয়া এলাকাকে অস্ত্রমুক্ত এলাকা ঘোষণার দাবি করেছেন।

অপরদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুমকি দিয়ে বলেন, যদি রুশ কোনো সেনা গুলি ছোড়েন বা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘাঁটি বানিয়ে এ কাজ করেন তবে তিনি ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবেন। 

এ বিদ্যুৎকেন্দ্র দিনিপ্রো নদীর এক পাশে অবস্থিত। যার বিপরীত অংশ দখলে রয়েছে ইউক্রেনের। ওই অংশে নিয়মিত গোলাবর্ষণ করছে রুশ সেনারা।

রোববার জেলেনস্কি বলেন, আমরা রাশিয়ার কাছে বহুবার আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়নি। সুতরাং নিজেদের রক্ষার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। সব ধরনের সন্ত্রাস-গোলাবর্ষণের জবাব দিতে হবে— যা একদিনের জন্যও থামে না।

লড়াই চলছে পূর্বে ও দক্ষিণে

কিয়েভ বলছে, খেরসন ও জাপোরিঝজিয়া দখলে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর দখলে নেওয়া বড় অংশ এ দুটি, যার নিয়ন্ত্রণ এখনো রাশিয়ার হাতে।

রোববার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের আভদিভকার কাছে হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া। যা ২০১৪ সালের পর ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘাঁটিতে রূপ নিয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞ ওলেগ ঝদানভ বলেন, আভদিভকা ও এর আশেপাশের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। আমাদের আর্টিলারি ক্ষমতা সীমিত এবং আমাদের সেনারা পিস্কি শহর রক্ষায় আরও সহায়তা চাইছে। যদিও এখনো এটি ইউক্রেনের দখলে রয়েছে।

এদিকে এ লড়াইকে কেন্দ্র করে মস্কো-ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এ লড়াইকে পশ্চিমা বিশ্ব অভিহিত করছে আগ্রাসন হিসেবে। তবে রাশিয়ার অবস্থান ভিন্ন। তারা একে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে দেখছে।