১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত ছিল দাবি করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। 

আজ সোমবার দুপুর ১২টায় এই দাবিতে ঢাকার পাকিস্তান দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শাহীন মাতুব্বর, তসলিম খান ও সদস্য মোজাম্মেল মীর। পাকিস্তান দূতাবাসের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোন পুলিশের এডিসি এলিন চৌধুরী। 

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন স্বাক্ষরিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। 

এতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক দিন। ১৯৭৫ সালের এইদিনে পাকিস্তান একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও মদদদাতাদের জবানবন্দিতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত পাকিস্তান বাংলাদেশের নিকট রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাইনি। 

আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ৩০ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছিল। বারবার দাবি করার পরও পাকিস্তান আজও বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চায়নি। পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও একাত্তরের গণহত্যাকে সমর্থন করে। 

জাতিসংঘের নিকট দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনীর বিচার করতে হবে। পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা না চাইলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও একাত্তরের গণহত্যার সাথে জড়িত পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে মামলা করার জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি অপশক্তির নানাবিধ ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। পাকিস্তান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সরাসরি মদদদাতা ও গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির-বিএনপির জঙ্গিদের অর্থায়ন করে ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস, যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। একাত্তরের গণহত্যা, ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার সাথে পাকিস্তানের আইএসআই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অপরাধে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। 

আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের নিকট দাবি, ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের কার্যক্রম সংকুচিত করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মদদদাতা পাকিস্তানকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, একুশে আগস্ট, গ্রেনেড হামলা ও একাত্তরের গণহত্যার অপরাধে ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস বন্ধসহ সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার দাবিতে পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাওসহ দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।